উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করতে কেন্দ্রের বরাদ্দ ২ লক্ষ কোটি

322

নয়াদিল্লি: উৎপাদন ও রপ্তানি শিল্পকে চাঙ্গা করতে ২ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজে অর্থ বরাদ্দের ছাড়পত্র দিল কেন্দ্র। বুধবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে উৎপাদন শিল্পের ১০টি ক্ষেত্রের জন্য অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে। এগুলি হল অ্যাডভান্স কেমিস্ট সেল (এসিসি) ব্যাটারি, বৈদ্যুতিন পণ্য, ওষুধ, টেলিকম, গাড়ি, বস্ত্র, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, সৌরযন্ত্র, এলইডি টিভি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ইস্পাত শিল্প।

করোনা-লকডাউনের প্রভাব এসব ক্ষেত্রের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত মে মাসে লকডাউনের ধাক্কা সামাল দিতে ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ধারাবাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে প্যাকেজের বিবরণ পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। বুধবার সেই প্যাকেজ বাবদ অর্থমঞ্জুর করেছে কেন্দ্র। মন্ত্রীসভার বৈঠকে তা অনুমোদন পেয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পরিকাঠামোকেও কেন্দ্র ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছে বলে মন্ত্রী জানান।

- Advertisement -

করোনা-লকডাউন প্যাকেজের কার্যকরিতা নিয়ে এর আগে বারবার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস নেতারা সরাসরি বাজারে নগদের জোগান বাড়ানো এবং প্রান্তীক শ্রেণির মানুষের হাতে টাকার জোগান নিশ্চিত করার দাবি করেছেন। রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনের মতো অর্থনীতিবিদও মোদি সরকারের আর্থিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আর্থিক সংকোচনের মোকাবিলায় বর্তমান সরকার স্বতন্ত্র নীতি নিয়ে চলছে। সরাসরি টাকার জোগান বাড়ানোর পরিবর্তে এই সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় লকডাউন পর্বে অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে দ্বিধায় ছিল কেন্দ্র। অক্টোবরের পর থেকে অর্থনীতি ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের চাহিদা বেড়েছে। জিএসটি আদায়ের পরিমাণ একলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ফলে উৎপাদন ও রপ্তানি শিল্পকে চাঙ্গা করার এটাই সময় বলে মনে করছে সরকার। বুধবারের বরাদ্দ সেদিকে ইঙ্গিত করছে বলে মত পর্যবেক্ষক মহলের।