নিউজ ব্যুরো, ৩০ অক্টোবরঃ কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির কাছে আবেদন করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে মুর্শিদাবাদের ৫জন শ্রমিককে খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। মানবতার শত্রুরা এই কাপুরুষোচিত কাজ করেছে। আমাদের এই হিংসা স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত। নিহতের পরিবারদের সাহায্যের জন্য সরকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির কাছে আবেদন করছি।’ টুইট করে শোকতজ্ঞাপন করেছেন মুখ্মন্ত্রীও। তিনি শোকবার্তায় লিখেছেন ঘটনায় তিনি হতবাক। ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরিও। অধীরবাবু বলেন, ‘কাশ্মীর আজ অত্যন্ত ঘৃণ্য ও জঘন্য হত্যালীলার সাক্ষী হয়ে রইল, সন্ত্রাসবাদীরা বর্বরোচিত আক্রমণ করে, পাঁচ গরিব মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। মানুষগুলো সকলে আমার জেলা মুর্শিদাবাদের মানুষ।’ ঘটনার জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের দেওয়া ভরসায় ভরসা করে, কাশ্মীরে রুটিরুজির জন্য গিয়ে, আজ ওঁরা প্রাণ দিল। খুব দুঃখ পাচ্ছি।’

মঙ্গলবার দুপুরে জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে বাংলার ওই শ্রমিকদের শিবির থেকে বাইরে বের করে আনে জঙ্গিরা। তারপর তাঁদের পরপর দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এক শ্রমিক কোনোরকমে পালিয়ে যেতে পারলেও তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল দিলবাগ সিংহ জানিয়েছেন, জঙ্গি হানায় নিহত শ্রমিকরা সকলেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে উপত্যকায় এসেছিলেন। নিহত পাঁচ জনকেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা হলেন, শেখ কামরুদ্দিন, শেখ মহম্মদ রফিক, শেখ নিজামুদ্দিন, মহম্মদ রফিক শেখ এবং শেখ মুরসলিন। আহত জাহিরুদ্দিনকে অনন্তনাগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরই ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।