ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস খতিয়ে দেখতে কোচবিহার সফরে রাজ্যপাল

81
ফাইল ছবি।

কোচবিহার: নির্বাচনে সন্ত্রাস কবলিত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে কোচবিহারে এলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি কোচবিহার বিমানবন্দরে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে নামেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, মাথাভাঙার বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মন, শীতলকুচির বিজেপি বিধায়ক বরেন চন্দ্র বর্মন প্রমূখ। জানা গিয়েছে, কোচবিহার থেকে রাজ্যপাল প্রথমে শীতলকুচিতে যাবেন। নিবার্চনের দিন সেখানে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের পরিবারের সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে। এরপর তিনি দিনহাটায় যাবেন। রাতে সার্কিট হাউসে থাকবেন। শুক্রবার তার অসমে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কোচবিহারে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘সন্ত্রাস কবলিত মানুষদের সঙ্গে দেখা করব। অসমে গিয়ে কোচবিহারের মানুষদের অনুরোধ করব তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসুক। প্রয়োজনে তাদের জন্য আমি নিজের বুকে গুলি খেতে রাজি রয়েছি।’

- Advertisement -

পাশাপাশি, ভোট পরবর্তী হিংসার পর গৃহহীন বহুসংখ্যক বিজেপি কর্মীরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে এদিন পায়ে হেঁটে মাথাভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হয় আশ্রিত এলাকা মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের পারডুবি বাজার পার্শস্থ এলাকা থেকে। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় বিজেপি নেতাদের উদ্যোগে গৃহহীন বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগি হল।

গৃহহীন বিজেপি কর্মীরা জানান, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর ভোট পরবর্তী হিংসায় মাথাভাঙা বিধানসভার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট খাটের বাড়ি ও বেশকিছু এলাকার প্রায় তিনশতাধিক বিজেপি কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছিল অন্যত্র। তাই তাঁরা ঘরে ফিরতে ও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে পায়ে হেঁটে মাথাভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত মাথাভাঙ্গা ও দিনহাটা মহকুমায় বিজেপি সমর্থকদের বাড়িঘর পরিদর্শনে মাথাভাঙায় যান রাজ্যপাল। তারপর সড়কপথে মাথাভাঙা শহর লাগোয়া পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাটখাটেরবাড়ি বাড়ি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শন করেন। কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে।

রাজ্যপালকে কাছে পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ঘটনার দিন নিজেদের অভিজ্ঞতা রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরেন। ক্ষতিগ্রস্ত চানেশ্বর দাস, কিরণ দাস, কাজল মুখার্জি, বিপুল দাস, কল্যাণী দাস, বাবু দাস, রুহিদস, বিশ্বনাথ দাস, শ্যামল দাস, তারামোহন দাসরা সেদিনের ঘটনার ভয়াবহতা রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরেন। চানেশ্বর দাস কিরণ দাসরা এদিন রাজ্যপালের পা জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিন ৩৫ মিনিট ছাটখাটের বাড়ি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করার পর রাজ্যপালের কনভয় শীতলকুচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।