মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্তোষজনক টুইট রাজ্যপালের

73

কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি টুইট করেছিলেন রাজ্যপাল। এরপরেই সোমবার রাজভবনে পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক চলে রাজ্যপাল ও মুখ্য়সচিবের। বৈঠকে মুখ্যসচিব রাজ্যপালকে জানান, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

এদিনের বৈঠক শেষে করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের ভূমিকা তুলে ধরে টুইট করে লেখেন, করোনা মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতালে করোনার বেড বাড়ানোর কাজ চলছে। মানবতার এই সংকটে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একযোগে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের কোনও সুযোগ নেই।

- Advertisement -

সোমবার রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪২৬ জন। রবিবার সেই সংখ্যা ছিল ৮৪১৯। তবে রবিবারের তুলনায় সোমবার করোনা পরীক্ষা অনেক কম হয়েছে। রবিবার যেখানে রাজ্যের ৪৬০৭৪ জনের পরীক্ষা হয়েছিল, সোমবার সেই সংখ্যা ৪২১১৮। অন্যদিকে রবিবারের তুলনায় সোমবার মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। রবিবার যেখানে রাজ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল সোমবার সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে আগামী ৩ দফায় যে জেলাগুলিতে ভোট হবে অর্থাৎ বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, মালদা ও মুর্শিদাবাদে সংক্রমণের হারও ক্রমশ বাড়ছে। যা উদ্বেগে রেখেছে চিকিৎসকদের।

এদিকে এদিন করোনা মোকাবিলায় নকশা তৈরি করতে আলিপুরের উত্তীর্ণ ভবনে বৈঠক সারলেন রাজ্যের বিদায়ী পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা ছাড়াও উপদেষ্টা চিকিৎসক ডাঃ শান্তনু সেন ও অভিজিৎ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্যে আরও বেশ কিছু কোয়ারান্টিন সেন্টার ও সেফ হোম তৈরি করা হবে। উত্তীর্ণতে ৫০০ শয্যার সেফ হোম তৈরির চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি আনন্দপুরে ৭০০ এবং গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে ২০০ শয্যার সেফ হোম তৈরি করার কথা ভাবছে রাজ্য প্রশাসন। রাজারহাটেও একই পরিকাঠামো তৈরির কথাও আলোচনা হয়েছে। এই হিসেবে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ২০০০ শয্যার সেফ হোম তৈরি করতে চাইছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার থেকেই এইসব ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।