জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ, আশার আলো দেখছেন পড়ুয়ারা

764

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মী নিয়োগের সাধারণ প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জাতীয় নিয়োগ সংস্থা তৈরিতে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্র। আগামী বছর থেকে চাকরি প্রার্থীদের সুবিধার্থে বছরে দু’বার করে পরীক্ষা নিবে জাতীয় নিয়োগ সংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ছাত্র-যুবদের একটা বড় অংশ। বিরোধী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি প্রত্যক্ষভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করলেও, তাঁরাও চাইছেন দেশের বেকার যুব সমাজের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করুক। শুধুমাত্র কাগজ কলমে নয়, জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে বেকার ছেলেমেয়ের চাকরি দিক সরকার।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ জাতীয় নিয়োগ সংস্থার পক্ষে মত দিয়েছে। রায়গঞ্জ পলিটেকনিক কলেজের সিভিল ডিপার্টমেন্টের প্রাক্তন ছাত্র শুভজিৎ সাহা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর হল পাশ করে বসে আছি। না আছে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি, না আছে রাজ্য সরকারের চাকরি। তার মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের লন্ডভন্ড অবস্থা। এই সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার যদি আমাদের মতো বেকারদের স্বার্থে জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়, তাহলে উপকৃত হব আমরা। তিনি আরও বলেন, এতদিন বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে পরীক্ষার জন্য যে খরচ হত, তার থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার তারিখ নিয়ে সমস্যা হয়। সেই সমস্যাও দূর হবে।

- Advertisement -

কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র তথা রায়গঞ্জের বাসিন্দা দেবজিৎ সাহা বলেন, আগামী বছর আমার কোর্স শেষ হওয়ার কথা। আশাকরি, জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাব। একটি অভিন্ন পরীক্ষা হলে একবারই আবেদনপত্র ও টাকা জমা দিতে হবে। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বাসুদেব সরকার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে পদ্ধতির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করতে চাইছে, সেই পদ্ধতি মেনে রাজ্য সরকারের উচিত কর্মী নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছি। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী মৌ চন্দ বলেন, বেকার ছেলেমেয়েরা চাকরি না পেয়ে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কেন্দ্র সরকার একটা ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা চাই রাজ্যের ক্ষেত্রে এই একইরকম উদ্যোগ নেওয়া হোক। জানি না গ্রাম বাংলার বেকার ছেলেমেয়েদের কবে দুঃখ দূর হবে।

ভারতের যুব ফেডারেশনের জেলা সম্পাদক কার্তিক দাস বলেন, কেন্দ্র সরকার তো অনেক কিছুই বলে। কিন্তু বাস্তবে তো কিছুই করে না। দেশের ছাত্র-যুব সমাজের স্বার্থে যদি জাতীয় নিয়োগ সংস্থা কার্যকারী হয়, তাহলে আগে তা করে দেখাতে হবে। দেশের মানুষকে বোকা বানাতে তাঁরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আগেও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেনি।

তৃণমূল যুব জেলা সভাপতি গৌতম পাল বলেন, জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে যদি দেশের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ হয়, তাহলে সমস্যা তো নেই। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, এই সরকারের আমলে চাকরি তো হয়নি, বরং চাকরি গেছে। তাই এইসব আই ওয়াশ মাত্র।

যুব কংগ্রেসের জেলা সহসভাপতি তন্ময় দত্ত বলেন, বেকার ছেলে মেয়েদের নিয়ে দুই সরকার শুধু খেলছে। ছেলেমেয়েদের আগে চাকুরি দিক। তারপর বলব উদ্দেশ্যটা কতটা মহৎ।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের জেলা সহ সংযোজক শুভব্রত অধিকারী বলেন, ভারত সরকার দ্বারা জাতীয় নিয়োগ সংস্থা ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। এই সংস্থা গঠনের ফলে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে।

সূত্রের খবর, নিয়োগ পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের ৩ বছর পর্যন্ত বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে দেশের ১২ টি ভাষায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে ভারতের গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকার চাকরি প্রার্থীরা। সব পরীক্ষার জন্য একটাই কমন সিলেবাস থাকবে। দেশের প্রতিটি জেলায় পরীক্ষাকেন্দ্র থাকবে। নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে যতবার খুশি পরীক্ষায় বসতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। জাতীয় নিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি বিভাগেই কর্মী নিয়োগ চলবে। তবে ছাত্র-যুবদের দাবি, বছরে দু’বার নয়, কমপক্ষে চারবার পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।