জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের চোখের সামনে করলা নদীর পাড়ে সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে জমি কেনাবেচা করা হচ্ছে পরেশ মিত্র কলোনির নদী লাগোয়া এলাকায়। ১৫ বিঘার বেশি জমি দফায় দফায় হাতবদল হয়েছে। এক কাঠা জমি ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর দরুন সরকারি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না হওয়ায় অবৈধ জমি কারবারিদের সক্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

বেআইনিভাবে কেনা এই জমিতে পাকা বসতবাড়ি উঠছে। ফলে বর্ষার মরশুমে করলা নদীর জল বাধা পেয়ে লোকালয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিষয়টি নিয়ে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ব্লক ভমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের তরফে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের জলপাইগুড়ি ডিপোর কাছেই জলপাইগুড়ি শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে পরেশ মিত্র কলোনি। এখানে নদীর চরের পাশের জমি দিনের পর দিন দখল হয়ে যাচ্ছে। অথচ দেখার কেউ নেই। বেআইনিভাবে জমি বিক্রির একটি চক্র এখানে সক্রিয়। নদীর পাড়ে পাকা বসতবাড়ি তৈরি হওয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। সরকারি জমি বেদখল হওয়ার জেরে আগামীতে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে সরকারকে সমস্যায় পড়তে হবে।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলার পরিমল মালো দাস বলেন, সরকারি জমি দখল হচ্ছে- এটা বাস্তব ঘটনা। জমি কেনাবেচার কাজ হচ্ছে ১০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে। বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া বসতবাড়ির বাসিন্দারা আমার কাছে জমির পাট্টা এবং পুর পরিসেবা পাওয়ার জন্য দরবার করতে এসেছিলেন। আমি তাঁদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, দখলদারদের কোনো পরিসেবা দেওয়া হবে না। সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ির সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু ধর বলেন, সরকারি জমি দখল হওয়া খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। করলা নদীর গতিপথ দখলদারির কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। জলপাইগুড়ি সদর ব্লক ভমি ও ভূমিসংস্কার আধিকারিক বিপ্লব হালদার বলেন, পরেশ মিত্র কলোনির একাংশে বেআইনিভাবে জমি দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।