সরকারি জায়গা বেদখল, নীরব প্রশাসন

95

ফেশ্যাবাড়ি: জায়গা জবরদখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। অভিযোগ, সরকারি জায়গায় হোটেল খুলে বহালতবিয়তে রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন ওই ব্যক্তি। সকলেরই নাকের ডগায় এমন বেআইনি কারবার চললেও তবুও হুঁশ ফেরেনি স্থানীয় প্রশাসনের। বেশ কিছুদিন ধরে এমনটা চলতে থাকলেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে পঞ্চায়েতের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্নের দানা বাঁধছে। যদিও এব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্পনা বর্মন। তবে ব্লক প্রশাসনের তরফে অবশ্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিলেছে।

প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের খট্টিমারি মদনগঞ্জ বাজার ঘেঁষা পঞ্চায়েতের নিজস্ব জায়গায় বর্তমানে সুভারপাথার উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। দৈনিক প্রচুর সংখ্যক মানুষ পরিষেবা নিতে আসেন। অভিযোগ, কার্যত লকডাউনে জনশূন্যতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাতের অন্ধকারে দোকানঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন ধরে হোটেল খুলে এক ব্যক্তি ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি দোকানঘরটির মেঝে পাকা করা হয়েছে। তারপর প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। স্থানীয় মহলে নিন্দার পাশাপাশি অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

- Advertisement -

বেআইনি নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি নিন্দায় সরব হয়েছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতারাও। সিপিএমের নিশিগঞ্জ এরিয়া কমিটির সম্পাদক আসিরুদ্দিন মিয়াঁ জানান, সরকারি জায়গা জবরদখল করে বেআইনি নির্মাণ রুখতে অবিলম্বে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি সিদ্দিক আলি মিয়াঁ জানান, সরকারি জায়গায় বেআইনি নির্মাণ নিন্দনীয়। কারবার রুখতে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাথাভাঙ্গা-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সুকমল নন্দীর কথায়, এব্যাপারে ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে। নিজে থেকে দোকানঘর না সরালে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন খট্টিমারি মদনগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরাও। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি জায়গা নির্মাণ কাজ রুখতে ব্যবসায়ী সমিতির তরফে বাধা দেওয়া হলেও ওই ব্যক্তি গুরুত্ব দেননি। সবমিলে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্নের দানা বাঁধছে স্থানীয় মহলে।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত হোটেল মালিক মানিক বর্মনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এব্যাপারে প্রেমেরডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্পনা বর্মন জানান, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাথাভাঙ্গা-২ বিডিও উজ্জ্বল সরদার জানিয়েছেন, সদ্য কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি। তাই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এমনটা হয়ে থাকলে প্রশাসনের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিডিও।