রাস্তার পাশের সরকারি জমি বিক্রি, নির্বিকার প্রশাসন

219

শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাতি কলোনি হয়ে ওল্ড মাটিগাড়া রোডের দুধারে সরকারি জমি প্রতিদিনই একটু একটু করে দখল হচ্ছে। অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা জমি মাফিয়ারাই এই জমি ব্যবসাযীদের কাছে বিক্রি করছে। এভাবে ওই মাফিয়ারা লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করছে বলেও অভিযোগ। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ঘটনার পুরো দায় স্থানীয় কাউন্সিলারের উপরেই চাপিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার সিপিএমের রিতা ওরাওঁ বলেন, সরকারি জমি দখল করে বিক্রি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু আমাদের দলের কেউ এই ঘটনায় যুক্ত নয়। আমি বারবার পূর্ত দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু পূর্ত দপ্তর কোনও পদক্ষেপ করছে না। বিষয়টি নিয়ে পূর্ত দপ্তরের নর্থবেঙ্গল কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার চন্দন ঝার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি শোনার পরেই এখন কথা বলতে পারব না বলে ফোন লাইন কেটে দেন।

শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং মোড়কে এড়িযে দ্রুত মাটিগাড়ায় পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ওল্ড মাটিগাড়া রোড ব্যবহার হয়ে আসছে। মহকুমা শাসকের অফিসের পাশের রেল ওভারব্রিজ ব্যবহার করে পাতি কলোনি হযে ওই রাস্তা ধরে খুব সহজেই মাটিগাড়া বাজারে পৌঁছে যাওয়া যায়। বাম আমলে তৈরি এই রাস্তা ২০১১ সালের পরে কিছুটা চওড়া করে অ্যাসফল্ট ম্যাস্টিক করা হয়েছে। ব্যস্ত এই রাস্তার দুপাশে থাকা পূর্ত দপ্তরের জায়গাও নিয়মিত দখল হচ্ছে। আশপাশে প্রচুর ঘরবাড়ি তৈরি হওয়ায় ওই রাস্তার পাশের জায়গা দখল করে দোকান বাজারও বসছে। অভিযোগ, এই রাস্তার যেটুকু ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে রয়েছে সেখানেই দখলদারির সংখ্যা বেশি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার একটি জমি মাফিয়াচক্র রাস্তার পাশের সরকারি জমি হাত হিসাবে বিক্রি করছে। এক হাত জমির দাম ৭-১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। একটি দোকান করার জন্য যেটুকু জমি প্রয়োজন হয় তা নিতেই ব্যবসায়ীদের কয়েক লক্ষ টাকা দিতে হচ্ছে মাফিয়াচক্রকে। আর টাকা না দিয়ে দোকান করার চেষ্টা করলে সমস্ত খুঁটি উপরে ফেলে দিচ্ছে মাফিয়ারা। এমনকি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সরকারি জমি যে নিয়মিত দখল হচ্ছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অমর আনন্দ দাস। তবে এই জমি বিক্রি চক্রে দলের কেউ যুক্ত নন বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ড দীর্ঘ কয়েক দশক থেকে সিপিএমের হাতেই রয়েছে। সেই দলের নেতা-নেত্রী এবং বর্তমান কাউন্সিলারকে জিজ্ঞাসা করুন। ওয়ার্ডে কোনও উন্নয়নমূলক কাজই ভালোভাবে হচ্ছে না। সরকারি জমিও দখল হযে যাচ্ছে। অথচ কাউন্সিলারের কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই।

- Advertisement -