শিসাবাড়িতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে খাসজমি

232

খোকন সাহা, বাগডোগরা : মাটিগাড়া ব্লকের আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের শিসাবাড়িতে খাসজমি দখল করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। জমি রক্ষায় সরকারি আধিকারিকদের উদাসীনতা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে মাটিগাড়ার বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানিয়েছেন, জমি দখলের বিষয়টি তাঁর জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দুর্জয় রায় বলেন, রঙ্গিয়া মৌজার শিসাবাড়িতে প্রায় ৩০ একর খাসজমি রয়েছে। ওখানকার জমি দখল করে বিক্রি করার অভিযোগে ২০১৭ সালে ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। ওই সময়ে খাসজমি মাপঝোখ করাও হয়েছিল। ৩০ একর জমি থেকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-কে ২০.৩০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প গড়ার জন্য এসজেডিএ সেই জমিতে প্রাচীর দিতে গেলে স্থানীয় কিছু মানুষ বাধা দেন। ওই জমি এসজেডিএ-র নামেই রয়েছে। এছাড়া ওখানে শিবমন্দির থানা গড়ার জন্য পুলিশকর্তারা জমি পরিদর্শন করে গিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিসাবাড়ির খাসজমি দখল করে প্লট করে লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি করছে জমি মাফিয়াদের একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের নেতারা যুক্ত রয়েছেন। শিসাবাড়িতে প্রায় ৩০ একর খাসজমি রয়েছে। বাম সরকারের আমলে বামেদের দখলে থাকা মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতি এমপ্লয়মেন্ট অ্যাসুরেন্স স্কিম (ইএএস) প্রকল্পে শিশু গাছের চারা লাগিয়ে বনসৃজন করেছিল। বাকি জমি ফাঁকা পড়ে ছিল। সেই জমি মাফিয়ারা দখল করে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা কাঠায় বিক্রি করছে। মূল্যবান শিশু গাছগুলিও বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীরা জানান, জমি মাফিয়ারা বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘিরে জমি ও মন্দির দখল করে বিক্রি করে দিচ্ছে। সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে সীমানা চিহ্নিত করে তার ভিতরে ঘর তৈরি করছে। অনেকদিন ধরেই এসব চলছে। শাসকদলের নেতা ছাড়াও শিবমন্দির এলাকার এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতার ভাই এই জমির কারবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। গত ৩১ ডিসেম্বর সিপিএম-এর মাটিগাড়া এরিয়া কমিটির তরফে আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসার ইনচার্জকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ওই স্মারকলিপিতে রঙ্গিয়া মৌজার শিসাবাড়ি এবং অন্যান্য মৌজার খাসজমি দখলমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়। আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অসিত নন্দী বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসার ইনচার্জ আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, সাতদিনের মধ্যে সরকারি জমিতে বোর্ড লাগাবেন এবং ঘিরে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।

- Advertisement -