জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়িতে পূর্ত দপ্তরের উত্তরবঙ্গের আট জেলার চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের সামনে বেআইনিভাবে প্রচুর দোকানপাট গজিয়ে উঠলেও এনিয়ে দপ্তরের কোনো হেলদোল নেই। এর জেরে এলাকায় জবরদখলকারীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিয়োগ। চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের পাশেই জেলাশাসকের দপ্তর ও বাংলো, পুলিশ সুপারের দপ্তর ও সার্কিট হাউস রয়েছে। এই ভিআইপি জোনে কীভাবে জবরদখলকারীদের সংখ্যা বাড়ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই এলাকা দিয়ে সবসময়ই বহু গাড়ি চলাচল করে। জবরদখলের জেরে রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ার জেরে এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, সমস্যাটিকে কেন্দ্র করে পূর্ত দপ্তর ও পুরসভার মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

পূর্ত দপ্তরের জলপাইগুড়ির এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার কেশব গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, রাস্তাটি আমাদের দপ্তরের অধীনস্থ নয়। এটি পুরসভার রাস্তা। তবে উপরমহলের নির্দেশে হালেই পুরসভা থেকে আমাদের রাস্তাটির দাযিত্ব দেওয়া হয়েছে। চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের মধ্যেই আমার ও সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির ধারে জবরদখলের বিষয়ে আমরা দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। তবে এবিষয়ে যা পদক্ষেপ করার তা অবশ্য পুরসভাকেই করতে হবে। জলপাইগুড়ি পুরসভার পূর্ত বিভাগের চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো অবশ্য বলেন, রাস্তাটির যাবতীয় দায়িত্ব পূর্ত দপ্তরের হাতে থাকায় চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের সামনে জবরদখলকারীদের সরাতে তাদেরই পদক্ষেপ করতে হবে। জবরদখলের জেরে রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। অবিলম্বে এই সমস্যা মেটাতে হবে।

- Advertisement -

জলপাইগুড়িতে পূর্ত দপ্তরের উত্তরবঙ্গের আট জেলার চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের সামনে রাস্তা জবরদখল করে বর্তমানে অস্থায়ী রেস্তোরাঁ, চা, মাংস, পান, মোটর সাইকেল মেরামতির দোকান প্রভৃতি গজিয়ে উঠেছে। এলাকায় নেতাজির মূর্তি পেরিয়ে কালেক্টরেট অ্যাভিনিউয়ে দিকে এগোলেই পূর্ত দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের দপ্তরের দেয়াল ঘেঁষে সকালে মাংসের দোকান বসতে দেখা যাবে। সকাল থেকেই এখানে প্রকাশ্যে মাংস কাটতে দেখা যায়। পাশেই চায়ের দোকান। তার পাশে মোটর সাইকেল মেরামতির দোকান দেওয়া হয়েছে। এলাকায় বেআইনিভাবে অস্থায়ী কয়েকটি রেস্তোরাঁও গজিয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ত এই রাস্তাটি দখল করে সবজি ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা চালান। এই দোকানগুলিতে সকাল থেকেই বেশ ভিড় হয়। জরবদখলের জেরে রাস্তাটি ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, জবরদখলের জেরে রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় তাঁরা যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। সমস্যা মেটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।