করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ সরকারের সমর্থন ফিকে

220

ওয়াশিংটন : করোনা মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য বহু দেশের সরকার জনসমর্থন খোয়াচ্ছে বলে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় ধরা পড়েছে। ছয়টি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমত বিষয়ে ওই সমীক্ষার রিপোর্ট শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, মহামারি ঠেকাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করার জন্যই এত সংক্রমণ ও মৃত্যু ঘটছে। পরিস্থিতি বুঝে আরও আগে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এছাড়া ওই সব দেশের জনগণের একটা বড় অংশের বিশ্বাস, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে সরকারের পরিসংখ্যানের চেয়ে বাস্তবে সংক্রামিত ও মৃতু্য়র সংখ্যা অনেক বেশি। নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে সরকার সত্য গোপন করছে বলে ওই দেশগুলির নাগরিকদের ধারণা। কেকস্ট সিএনসি কমিউনিকেশনস কনসাল্টিং গ্রুপের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতির জেরে গত জুন মাস থেকে অন্তত ৪ শতাংশ জনসমর্থন কমে গিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের। সমীক্ষায় ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সরকারের ভূমিকায় তাঁরা অসন্তুষ্ট। একই পরিস্থিতি ব্রিটেনে। গত এক মাসে সেখানে সরকার বিরোধী মনোভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। দেখা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩ শতাংশ সমর্থন হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রিটেনের ৩৩ শতাংশের বেশি জনমত এখন বরিস সরকারের বিরুদ্ধে। এর মূল কারণ করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতা। ফ্রান্স, সুইডেন, জাপান এবং জার্মানিতেও ওই সমীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী গত এক মাসে প্রায় সব দেশের সরকারের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।

একমাত্র ব্যতিক্রম ফ্রান্স। সে দেশে গত জুন-জুলাইয়ে সরকারের প্রতি জনসমর্থন ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এখনও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রতি জনগণের অসমর্থনের পাল্লাটা বেশ ভারী (৪১ শতাংশ)। করোনা সংক্রমণের নিরিখে ফ্রান্সের স্থান এখন বিশ্বে সপ্তম। প্রথম দিকে ইতালি বা স্পেনের মতো না হলেও ফ্রান্সের যথেষ্ট খারাপ ছিল। করোনা মোকাবিলায় গোড়া থেকে নরম মনোভাব ছিল সুইডেনের। এই কারণে প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফেনের সমর্থন জুন-জুলাইয়ে ৭ শতাংশ কমেছে। মার্কিন জনগণের বিশ্বাস, সেদেশে জনসংখ্যার এক দশমাংশের মৃত্যু হয়েছে করোনায়, যা সরকার ঘোষিত সংখ্যার চেয়ে ২০০ গুণ বেশি। সংক্রমণ নিয়ে সরকার পরিসংখ্যান দিচ্ছে অনেক কমিয়ে জার্মানির জনগণ মনে করে, অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি সংক্রমণ ঘটেছে সেদেশে। ব্রিটেন ও সুইডেনের নাগরিকদের ধারণা, জনসংখ্যার ৬-৭ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে করোনায়, যা সরকার ঘোষিত পরিসংখ্যানের ১০০ গুণ। আমেরিকার ৫৪ শতাংশ মনে করেন, অর্থনীতির ওপরে করোনা মোকাবিলাকে স্থান দেওয়া উচিত সরকারের। সুইডেন ছাড়া ইউরোপের অন্য দেশগুলিতে মাস্ক পরা সহ সুরক্ষাবিধি মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। প্রত্যেকটি দেশে বিভিন্ন স্তরের ১০০০ জনের মতামত যাচাই করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে কেকস্ট। সমীক্ষকদের মতে, এই জনমত পরিবর্তন সম্পর্কে সজাগ না হলে সরকারগুলি ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারে।

- Advertisement -