ভূমিক্ষয় রোধে সরকারি উদ্যোগে আলবাঁধ দেওয়া হচ্ছে খাসবস দ্বারিকামারিতে

199

জামালদহ: এবছর বর্ষায় অতি বৃষ্টির জেরে ভূমিক্ষয় হয়েছিল কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসবস দ্বারিকামারি এলাকায়। ব্যাপক ভূমিক্ষয়ের জেরে বিলীন হয়ে গিয়েছিল বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি। এমনকি, জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল ধানখেতও। এই ঘটনায় মাথায় হাত পড়েছিল স্থানীয় কৃষকদের। অবশেষে কৃষকদের জমি রক্ষার্থে গ্রামে শুরু হয়েছে বাঁশের পাইলিং দিয়ে আলবাঁধ দেওয়ার কাজ। এতে কিছুটা হলেও কৃষকদের জমি রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁরা জানিয়েছেন, সরকারি উদ্যোগেই এই কাজ চলছে।

খাসবস দ্বারিকামারি গ্রামের বাসিন্দা অধীর রায়, সুভাষ রায়, সুধীর রায়, দীনেশ প্রামাণিক প্রমুখ জানিয়েছেন, ফি বছর বর্ষায় জলের তোড়ে ধানের খেত সহ কৃষিজমি ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বহুবার পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু সমস্যার নিরসন হয়নি। উলটে এবছর মারাত্মকভাবে কৃষি জমির ক্ষয় হয়েছে। ফলে দিশাহীন হয়ে পড়েছিলেন এলাকার কৃষকরা। শেষ পর্যন্ত কৃষি জমি রক্ষার জন্য আলবাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা খানিকটা স্বস্তিতে।

- Advertisement -

ওই এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, গোটা এলাকাটি কৃষিনির্ভর। গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু ফি বছর বর্ষার সময় ব্যাপকহারে ভূমিক্ষয়ের সমস্যায় ভুগতে হয় তাঁদের। ফলে আশানুরূপ ফসলও তাঁরা খেত থেকে ঘরে তুলতে পারেন না। তাঁরা জানিয়েছেন, এবারের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষিজমি ভেঙে নালা তৈরি হয়েছে। এখন একটু বেশি বৃষ্টি হলেই সেই নালা দিয়ে জলের স্রোত বইতে থাকে। আর নালার দু’পাশের জমি ব্যাপকহারে ভাঙতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিক্ষয়ের ফলে ভাটিয়াপাড়া এলাকায় গ্রামের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটিও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। জমির ভাঙন প্রতিরোধের জন্য বর্তমানে প্রশাসনের তরফে গ্রামে আলবাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু হতেই খানিকটা স্বস্তিতে এলাকাবাসী।

এই বিষয়ে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গীতা বর্মন বলেন, ‘ওই গ্রামে যেভাবে প্রতি বছর জলের তোড়ে একের পর এক কৃষিজমি মাটিতে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল, তাতে এলাকাবাসীর পথে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। যাই হোক, বর্তমানে ভূমিক্ষয় রোধের যে কাজ শুরু হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হলে ভয়ানক বিপদের হাত থেকে তাঁরা রক্ষা পাবেন।’