অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে সরকারি গাছ, প্রতিবাদে সরব গ্রামবাসীরা

197

তুফানগঞ্জ: রাতের অন্ধকারে বহু বছরের পুরোনো সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এভাবে একের পর এক গাছ কাটার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরানফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

অভিযোগ, অন্দরানফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮/৫৪ নম্বর বুথের রায়ডাক নদীর ওপারে উল্লারঘাট এলাকায় রাস্তার দু’ধারের বহু বছরের পুরোনো সরকারি গামারী, জারুল সহ অন্যান্য গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। কয়েকমাসে বেশ কিছু গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ। এক একটি গাছের মূল্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি বলে দাবি এলাকাবাসীদের। এভাবে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু দুষ্কৃতী। এরই বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সরব হন এলাকার বাসিন্দারা। তবে তাঁদের দেখে দুষ্কৃতীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে সেখান থেকে চম্পট দেয় বলে জানান বাসিন্দারা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অভিরাম দাস জানান, সকালে প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে তাঁদের নজরে পড়ে বহু মূল্যের পুরোনো গামারী গাছ কেটে টুকরো করে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকায় খবর নিয়ে জানতে পারেন, এর আগেও কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে দুষ্কৃতীরা। সেই দুষ্কৃতীদের হাতেনাতে ধরতে এদিন গ্রামবাসীদের নিয়ে হাজির ছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাঁদের দেখতে পেয়ে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আগামী দিনে যাতে আর সরকারি সম্পত্তি নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ বলেন, ‘যখন যার গাছের প্রয়োজন কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাতেই খোঁজ নিলে মূল্যবান গাছ উদ্ধার করা যাবে। এভাবে গাছ লাগানোর পরিবর্তে কেটে ফেলছে কিছু লোকজন। নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অবৈধভাবে গাছ কাটা অনুচিত। এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ না করলে আগামী দিনেও গাছ কেটে ফেলবে এলাকারই কিছু দুষ্কৃতী।’

এ ব্য়াপারে সংশ্লিষ্ট বুথের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মলয় বর্মন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।’ অন্দরানফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘এভাবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা মোটেও ঠিক নয়। বিনা অনুমতিতে গাছ কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের নামে এফআইআর করা হবে। এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’