পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা না করে পরিকল্পনা পাঠালে প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে। পঞ্চায়েতের পাড়াসভা, গ্রামসভা হয়ে পরিকল্পনা এলে তবেই সেগুলি গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাদ দিয়ে পঞ্চায়েত পরিকল্পনা করা হলে কোনোভাবেই তা গ্রহণ করা হবে না। জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০২০-২০২১ আর্থিক বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে পঞ্চায়ে দপ্তরের আয়োজনে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি পুরসভায় একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলাশাসক অভিষেককুমার তিওয়ারি এই ভাষাতেই উপস্থিত পঞ্চায়েত প্রধানদের সতর্ক করেন। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক সজল তামাং এবং ১০০ দিনের কাজে জেলার নোডাল অফিসার সুরজিত্ চট্টোপাধ্যায়ও নানা বিষয়ে প্রধানদের সতর্ক করেন। জেলাশাসক বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা হয়ে যাওয়ার পরও অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত থেকেই সাপ্লিমেন্টারি পরিকল্পনা পাঠানো হয়। ২০২০-২০২১ আর্থিক বছরে এই ধরনের পরিকল্পনা পাঠানো হলে কোনোভাবেই তা গ্রহণ করা হবে না।

২০২০-২০২১ আর্থিক বছরের জন্য কী ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা কীভাবে করতে হবে তা নিয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে এদিন জলপাইগুড়িতে কর্মশালার আযোজন করা হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামবাসীদের আবশ্যিকভাবে শামিল করাতে সম্প্রতি নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এনিয়ে জেলায় জেলায় নির্দেশিকা পেঁছে গিয়েছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মধ্যে এনিয়ে অবশ্য জলপাইগুড়িতেই প্রথম কর্মসূচি আয়োজিত হল। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক সজল তামাং বলেন, পঞ্চায়েতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আবশ্যিকভাবে গ্রামবাসীদের শামিল করতে হবে। নিজস্ব সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পঞ্চায়েতগুলিকে কাজ করতে হবে। সমস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা পঞ্চায়েতের পাড়াসভা থেকে গ্রামসভার পর সংসদসভা হয়ে ব্লকে আসবে। তারপর তা আমাদের কাছে আসবে। সেই মতোই ব্যবস্থা করতে হবে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত বৈঠক শেষ করে ২০২০-২০২১ আর্থিক বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজ শেষ করতে হবে। ১০০ দিনের কাজে জেলার নোডাল অফিসার সুরজিত্ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আজ থেকে কয়ে বছর আগেও পঞ্চায়েত অফিসে বসেই নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হত। এখন থেকে সে সব আর চলবে না। গ্রামবাসীরাই উন্নয়নের লক্ষ্যে থাকায় বিভিন্ন পরিকল্পনায় তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেই হবে।

আধিকারিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে পরিসেবা দিতে ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েত ও রামশাইতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বাতাবাড়িতে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে। কোনো আইসিডিএস সেন্টারে যাওয়ার রাস্তা চলাচলের উপযোগী না থাকলে ১০০ দিনের কাজে সমস্যা মেটানোর মতো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এদিন নেওয়া হয়। উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণত বর্ষার সময় করা হয় না। ১০০ দিনের কাজে জেলার নোডাল অফিসার বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্যে যাতে বর্ষার সময়ও কাজ করা য়ায় সেজন্য এখন থেকে কিছু কাজ নির্দিষ্ট করা হবে। এদিনের কর্মশালায় পঞ্চায়ে ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কলকাতা থেকে আসা প্রশিক্ষক, আইএসজিপি এবং সরকার স্বীকৃত সংস্থা স্টারপ্যাড-এর প্রশিক্ষকরা ছাড়া বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়ে প্রধান, বিডিও, জযে্ট বিডিও, নির্বাহী আধিকারিকারিক, নির্মাণ সহায়করা উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রধানদের অনেকেই কর্মশালায় অনুপস্থিত ছিলেন বলে জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন জানান। তিনি বলেন, সার্বিক উন্নয়নে সবাই মিলে কর্ময়জ্ঞে শামিল হতে হবে।