পুকুর চুরিতে অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : গ্রাম থেকে গায়েব আস্ত পুকুর। অস্তিত্বই নেই পুকুরের। রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের পর এবার তৃণমূল পরিচালিত আলতাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ সদস্যদের বিরুদ্ধে এনআরইজিএস প্রকল্পে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে গ্রামের মানুষ এই প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে আন্দোলনে নামেন। তাঁরা অভিযোগ তোলেন, এলাকায় কোনও পুকুর নেই, অথচ পুকুর কাটার বিল তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিডিও বিজয় মুক্তান বলেন, আলতাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজে পুকুর খনন নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ব্লক প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তাঁরা জানান, এলাকার এক মৃত ব্যক্তির নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই টাকা চলে গিয়েছে গ্রাম সংসদ সদস্যের মায়ের অ্যাকাউন্টে। এবার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে পুকুর খননের লক্ষাধিক টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, আলতাপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ুয়া গ্রামে ১০০ দিনের প্রকল্পে এলাকার বাসিন্দা সলিমুদ্দিনের জমিতে একটি পুকুর খনন করা হয়েছে। ওই কাজের টাকা তুলেও নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই ৩১ শতক জমিতে গিয়ে দেখা গেল, বাঁশের ঝাড়ের পাশে সেই জমিতে ধানের বীজতলা করেছেন সলিমুদ্দিন। কিছুটা পতিত জমিও পড়ে আছে। সেখানে কোনও পুকুরের অস্তিত্ব নেই। সলিমুদ্দিন জানান, প্রধান সুফিয়া খাতুনের স্বামী জিয়াবুল আলি দুবছর আগে আমার জমিতে পুকুর কাটার জন্য জমির খতিয়ানের কপি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পুকুর আজও হয়নি।

- Advertisement -

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনও উত্তর না দিয়ে চুপ করে থেকেছেন প্রধান সুফিয়া খাতুন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুফিয়াকে সামনে বসিয়ে সব কলকাঠি নাড়েন তাঁর স্বামী জিয়াবুল আলি। স্ত্রী প্রধান হওয়ার আগে জিয়াবুলের একটা ছোট লটারির দোকান ছিল স্থানীয় বাগডোবা এলাকায়। মাথা গোঁজার জন্য বড়ুয়া গ্রামে দোচালা একটা টালির ঘর ছিল। স্ত্রী প্রধান হওয়ার পর লটারির দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন জিয়াবুল। এখন চারচাকার সাদা গাড়িতে ঘুরে বেড়ান তিনি। পুরোনো টালির বাড়িটা এখন পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। পাশেই প্রাসাদসম পাকা বাড়ি বানিয়েছেন জিয়াবুল। আয়ে উৎস কী, তা নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি জিয়াবুলের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন।

সরকারি ওয়েসাইটে দেখা গিয়েছে, পুকুর খনন বাবদ খরচ হয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ টাকা। স্থানীয় সিপিএম নেতা আশিস ঘোষ জানান, পুকুর খননের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। অথচ কোনও তদন্ত হচ্ছে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পুকুর চুরির প্রতিবাদে আন্দোলন করছি। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষাকর্মী সমর সরকার বলেন, গরিব মানুষের টাকা নয়ছয় করছে গ্রাম পঞ্চায়েত। যাঁরা ক্ষমতায় আছে, তারাই ফুলেফেঁপে উঠছে। করণদিঘির বিধায়ক মনোদেব সিনহা জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম পাল বলেন, প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। তেমন কিছু পায়নি। দলীয়ভাবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।