গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব খরচে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোয়ারান্টিন সেন্টার

291

কালচিনি: করোনা সংক্রমণের জেরে যখন আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন ব্লকে, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে কোয়ারান্টিন সেন্টার নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝামেলা চলছে, ঠিক সেই মূহুর্তে কালচিনি ব্লকের মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্রয় দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত তৈরি করল।

গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভিনরাজ‍্য থেকে ফেরা দুঃস্থ গ্রামবাসীদের জন‍্য নিজস্ব খরছে একটি পৃথক কোয়ারান্টিন সেন্টার তৈরি করার। সোমবার মেন্দাবাড়ির আইটিআই কলেজে ওই সেন্টারের উদ্বোধন করেন কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা ও লতাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের রোগী কল‍্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অসীম মজুমদার।

- Advertisement -

মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চন্দ্রা নার্জিনারি বলেন, ভিনরাজ‍্য থেকে গ্রামে ফেরা বেশিরভাগ বাসিন্দা দুঃস্থ পরিবারের। তাঁদের বাড়িতে একটি করে ঘর রয়েছে। প্রশাসন হাইরিস্ক জোন ছাড়া অন‍্য এলাকা থেকে ফেরাদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দিলেও বাড়িতে কোয়ারান্টিনের পরিকাঠামো না থাকায় আমরা তাঁদের জন‍্য আইটিআই কলেজে বিশেষ কোয়ারান্টিনের ব‍্যবস্থা করেছি। কালচিনি ব্লক প্রশাসন এই উদ‍্যোগের প্রশংসা করেছে‌।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা সংক্রমনের শুরুতেই ব্লকের মধ‍্যে মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সর্বপ্রথম গ্রামে কোয়ারান্টিন খোলার উদ‍্যোগ নেয়। ব্লকের মধ‍্যে সব থেকে বেশি কোয়ারান্টিন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের তরফে খোলা হয়। সেখানকার কৃষক বাজার, আইটিআই, হিন্দি মডেল স্কুল ও কেন্দ্রীয় বিদ‍্যালয়ের কোয়ারান্টিন চালু করতে গিয়ে ব্লক প্রশাসনকে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়নি। এতদিন গড়ে প্রায় ৮০০ বাসিন্দাকে ওই কোয়ারান্টিনে রাখা নিয়েও গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়তে হয়নি।

গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব খরচে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোয়ারান্টিন সেন্টার| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনা রাভা বলেন, আমরা শুরুতেই গ্রামবাসীদের কোয়ারান্টিনের বিষয়ে আলোচনা করে তাঁদের সচেতন করেছি। ফলে এখানকার কোয়ারান্টিনে অন‍্য ব্লক বা অন‍্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাকে কোয়ারান্টিনে রাখা হলেও গ্রামবাসী বাঁধা দেননি। উপপ্রধান চন্দ্রা নার্জিনারি বলেন, ভিনরাজ‍্য থেকে আসা গ্রামবাসীদের আমরা ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে রাখার ব‍্যবস্থা করেছি। গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১১ জন সদস্য একদিন করে আবাসিকদের তিন বেলা খাবারের ব‍্যবস্থা করবেন জানিয়েছেন।

কালচিনির বিডিও ভূষণ শেরপা বলেন, কোয়ারান্টিন নিয়ে প্রথম থেকেই মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত, গ্রামবাসী ও গ্রামের সমাজকর্মীরা যে ভাবে ব্লক প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন তার জন‍্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, একদিনের খাবার দেওয়া থেকে কোয়ারান্টিনের বিষয়ে ব্লক প্রশাসন গ্রাম পঞ্চায়েতকে সব রকম সহযোগিতা করবে। লতাবাড়ি গ্ৰামীণ হাসপাতালের রোগী কল‍্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অসীম মজুমদার বলেন, মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগ পথ দেখাবে জেলাবাসীকে।

তিনি বলেন, মুখ‍্যমন্ত্রীর উদ‍্যোগে প্রত‍্যন্ত এই গ্রামে কৃষক বাজার ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন‍্য নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। সেই ভবনগুলি এখন সাধারন মানুষের কাজে লাগছে। তিনি নিজেও আবাসিকদের একদিনের খাবারের ব‍্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এলাকার বাসিন্দা ও মেন্দাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান বিজয় শৈব বলেন, এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত‍্যেকের কর্তব‍্য। এলাকার সমাজকর্মী বিনয় নার্জিনারি বলেন, আমরা প্রথম থেকেই গ্রামবাসীদের সচেতন করে আসছি। ফলে গ্রামবাসীরাও নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। উল্লেখ্য, ভিনরাজ‍্য ফেরত প্রায় ৪০ জন গ্রামবাসীকে ওই কোয়ারান্টিনে রাখার ব‍্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও কিছু পরিযায়ী শ্রমিক আসবেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।