দলীয় কর্মীর হাতে মার খেলেন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য

1032

রায়গঞ্জ: তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিজেপি পরিচালিত রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের ভিতর তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দুই সদস্যের মধ্যে মারধর শুরু হয়। তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মলয় সরকারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে রামপুর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সদস্য গৌতম সরকারের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন মলয়বাবু। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মলয়বাবুকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত গৌতম সরকারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মলয়বাবুর অনুগামীরা বুধবার রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর ঘেরাও করেন। পরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখান। ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছেন ব্লক ও জেলা নেতৃত্ব।

- Advertisement -

মঙ্গলবার দুই সদস্যকে নিয়ে বসে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও মলয়বাবু মিটিং থেকে বেরিয়ে যান। তিনি গৌতমবাবুর বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এদিন দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর বিডিওর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

মলয়বাবুর অভিযোগ, ‘অবৈধভাবে টেন্ডারকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ করার প্রতিবাদে আমি গত জুলাই মাসে ব্লক প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলাম। রাস্তাঘাট, শ্মশানচুল্লি নির্মাণ, পঞ্চায়েত দপ্তর রং করার জন্য যে টাকার টেন্ডার হয়েছিল তার চেয়ে বেশি টাকার বিল করা হয়। পরে জানতে পারি, এর পিছনে আমাদের দলের অঞ্চল সভাপতি গৌতম সরকার ও বিরোধী দল নেতার প্রচ্ছন্ন মদত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার আমি যখন পঞ্চায়েত দপ্তরে বসে কাজ করছিলাম সেই সময় তৃণমূলের দুই পদাধিকারী আমার ওপর রড ও বাটাম নিয়ে হামলা করেন।’ তিনি বলেন, ‘গতকাল পঞ্চায়েত দপ্তরে আমাকে যেভাবে মারধর করেছে তা মেনে নিতে পারছি না। ভুল স্বীকার করে নিলে সব মাফ হয় না। তাই এদিন গ্রামবাসীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তবে বিডিওর আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলন তুলে নিয়েছেন তাঁরা।’

যদিও তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি গৌতম সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। গৌতমবাবু বলেন, ‘বিল বাড়ানোর ক্ষমতা আমার কি আছে। আসলে তৃণমূলের কোনও সদস্য তার সঙ্গে নেই। কারণ উনি দলের নিয়মশৃঙ্খলা মানেন না। গতকাল যখন পঞ্চায়েত অফিসে যাই সেই সময় আমার ওপর প্রথম হামলা করেন মলয়বাবু। আমি নিজেকে রক্ষা করার জন্য তাঁকে ধাক্কা মারি। সেই সময় তিনি পড়ে যান। কোনও মারধর করা হয়নি।’

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় তা বসে মিটিয়ে নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি পূর্ণেন্দু দে এবং দুই ব্লকের দুই সভাপতি মানস কুমার ঘোষ ও সত্যজিৎ বর্মন দু’পক্ষকে নিয়ে বসে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, ‘তৃণমূলের জামানা যে শেষ হচ্ছে তারই নমুনা দেখছে সকলে। এরা নিজেরা নিজেদেরকে বিশ্বাস করছে না।’ মলয়বাবুর দাবি, ‘গরিব মানুষের টাকা নয়ছয় হতে দেব না। আগামীদিনেও আমার প্রতিবাদ চলবে।’