সড়ক অবরোধের জেরে জমা জল সরাতে উদ্যোগী গ্রাম পঞ্চায়েত

1039

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জের কর্ণজোড়া আবাসনে জমে থাকা জল দুটি পাম্প চালিয়ে বের করার প্রক্রিয়া শুরু করল স্থানীয় পঞ্চায়েতে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি জবরদখল করা ড্রেন খোঁড়ার কাজ শুরু করল পূর্ত দপ্তর। কর্ণজোড়া আবাসনের আবাসিকদের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারংবার বলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দু’বার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর কাজ শুরু করা হল। আবাসনের জল পাম্প চালিয়ে পাশের বোগ্রামের কুলিকের ক্যানেলে ফেলা হচ্ছে।

কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পুলক অধিকারী বলেন, “আপাতত দুটি পাম্প সেট দিয়ে আবাসন থেকে জল বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার আরও ছয়টি পাম্প সেট লাগিয়ে জল বের করা হবে।” ১৩ নম্বর কমলাবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের মেম্বার অজয় সরকার বলেন, অবৈধ ভাবে নিকাশি নালা জবরদখল করে যত্রতত্র দোকান গজিয়ে ওঠায় এই সমস্যা। কর্ণজোড়া থেকে বোগ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

আবাসনের বাসিন্দা কুমকুম যায় বলেন, “পঞ্চায়েতের তরফে জমা জল বের করার চেষ্টা করছে। পাম্প সেটের সংখ্যার না বাড়ালে জমা জল বের করতে তিন চার দিন সময় লেগে যাবে। আমরা ১৫ দিন ধরে জমা জলের মধ্যে রয়েছি। জমা জল পচে গন্ধ বেরিয়েছে। একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেকদিন ধরেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বৃষ্টি হলেই আবাসনে জল জমে যায়। বারংবার বলেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় আমরা আবাসনের আবাসিকরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অসুস্থ রোগী। দিনে চারবার করে ইনসুলিন নিই। কিন্তু জমা জলের কারণে মেডিসিনের ডেলিভারি নিতে পারছিনা। এরপরে অসুস্থ হয়ে পড়লে সুস্থ হওয়ার আর কোনও সুযোগ থাকবে না।”

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃষ্টির জলে জলমগ্ন কর্ণজোড়ার আবাসন, কৃষি দপ্তর, মৎস্য দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তর। জলমগ্ন আবাসনে সাপ, পোকা-মাকড় ঢুকে যাওয়ায় তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন তারা। শুধু তাই নয় কর্ণজোড়ায় প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের প্রায় দশটি দোকান জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জেলাশাসক দপ্তরের কর্মী সুভাষ ঘোষ বলেন, “পঞ্চায়েতের তরফ থেকে জমা জল বের করায় আমরা খুশি।”
শুধু আবাসনই নয় কর্ণজোড়া আইটিআই কলেজে যাওয়ার পথে জল জমে রয়েছে। কুলিক সমবায় দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্রে জল জমে রয়েছে। ফলে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থার কর্মীরাও।