কথা রাখেনি বিজেপি, গোঁসা অনন্ত মহারাজের

255
ফাইল চিত্র

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, কোচবিহার : অভিযোগ, মহারাজের কথা রাখেনি বিজেপি। পৃথক রাজ্যের কথা বাদ দিলেও নারায়ণী রেজিমেন্ট, অষ্টম তপশিলে যুক্ত হয়নি রাজবংশী বা কামতাপুরি ভাষা, দাবি মেনে কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয়নি রাজপরিবারের কাউকেই। তাই একের পর এক লোকসভা, বিধানসভায় ঢেলে পদ্মফুলে ভোট দিলেও এবার সহজে সেই রাস্তায় হাঁটতে নারাজ অনন্ত রায়পন্থী গ্রেটার নেতা-কর্মীরা। বিজেপি কোনও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় ক্ষোভ বাড়ছে তাঁদের মধ্যে। অন্যদিকে, বিজেপির ভরসায় মাঠে নেমে জামিন অযোগ্য ধারার একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন অনন্ত রায়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি-ও। আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন সম্পত্তি থাকার অভিযোগও হয়েছে তাঁর নামে। সেইসব মামলায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কাতেই দীর্ঘদিন থেকেই অসমে গা-ঢাকা দিয়েছেন অনন্ত রায়। তাঁর সঙ্গে দলের একাধিক শীর্ষ নেতাও রয়েছেন বলেই খবর। সূত্রের খবর, বিজেপির কাছে রাজ্যের মামলাগুলিতে গ্রেপ্তার না হওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। সেই ভরসাও জোটেনি। তাই চকচকায় শখের রাজবাড়িতে ফিরতে না পারায় গোঁসা হয়েছে তাঁর।
ভোটের মুখে মহারাজ ও তাঁর অনুগামীদের রাগ ভাঙাতে মাঠে নেমেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই ৪ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়িতে মহারাজের প্রতিনিধি অরুণকুমার রায়ে সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। সেই বৈঠকে জট না খুললে বিধানসভায় অনন্তপন্থী গ্রেটারের ভোট যে বিজেপির বাক্সে নাও পড়তে পারে সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন অরুণবাবু। তিনি বলেন, বিজেপি আমাদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনওটিই এখনও পূরণ হয়নি। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকার দাবিগুলি পূরণ করবে বলে আশাবাদী। সেটা না করলে আমরা ভোটে কাদের সঙ্গে থাকব সেই বিষয়ে দলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাব।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার নির্দেশে বিজেপির অসমের নেতারা ইতিমধ্যেই দুই দফায় অনন্ত রায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দলের এক সাংসদও সম্প্রতি অনন্ত রায়ের সঙ্গে দেখা করে একদফা আলোচনা সেরেছেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পর দিল্লিতে বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে অনন্তপন্থী গ্রেটার নেতাদের বৈঠক হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, গত বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে সমর্থনকারী অনন্তপন্থী গ্রেটার নেতাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ চলছিল তৃণমূলের একাংশের। মামলা মিটিয়ে রাজবাড়িতে ফেরার প্রতিশ্রুতিও  পেয়েছিলেন মহারাজ। তারপরই কলকাতায় একটি বৈঠকে বসার পরিকল্পনাও কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। সেই খবর জানার পরই তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজেপি। তবে, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সক্ষম হবে বিজেপি তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান অনন্তপন্থী গ্রেটার নেতাদের একটা বড় অংশ। আবার কেন্দ্রীয় বিজেপির হস্তক্ষেপে ড্যামেজ কন্ট্রোল হলেও যদি অনন্ত মহারাজ নিজে ময়দানে না নামতে পারেন তাহলে ভোটে বিজেপির হয়ে আদৌ কতটা ঝাঁপাবেন তাঁর অনুগামীরা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। তবে বিজেপি নেতা ও কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, অনন্ত মহারাজদের পূর্ণ সমর্থন আমাদের সঙ্গেই থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। কয়েক মাস আগেও অমিত শার সঙ্গে অনন্ত রায়ের বৈঠক হয়েছে। আমরা আলোচনা চালাচ্ছি। ওঁদের দাবিমতো পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
রাজবংশীদের মন পেতে সমানে টক্কর দিচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। বিজেপি সেনাবাহিনীতে নারায়ণী রেজিমেন্টের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই সময় নষ্ট না করে তৃণমূল সরকার নারায়ণী ব্যাটালিয়ন ঘোষণা করে দিয়েছে। রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতি আকাদেমি, রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদ, পঞ্চানন বর্মার নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে বিজেপিকে টেক্কা দিয়ে একধাপ এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, কেন্দ্রের কাছ রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রাপ্তির ভাঁড়ার এখনও শূন্য। নানা অভিযোগকে সামনে রেখেই বিজেপি নেতারা মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন। পদ্ম শিবিরের ভোটকৌশলীরা ভালোই বুঝতে পেরেছেন, প্রাপ্তির তথ্যের নিরিখে তৃণমূল গুনে গুনে তাদের গোল দিতে পারে। তাই অনন্ত রায়কে ময়দানে নামাতে বদ্ধপরিকর তাঁরা। পাহাড় বাদে উত্তরবঙ্গের সবকটি আসনেই ভিআইপি ক্যাম্পেনার হিসাবে অনন্ত রায়কে চাইছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজবংশী সম্প্রদায়কে দুহাত ভরে দিয়েছেন। তাদের পূর্ণ সমর্থন আমরা পাব। বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে যাঁরা পা দিয়েছেন তাঁরাও ভুল বুঝতে পেরে আমাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন।