ফ্রান্সে বন্দুকবাজের হামলা, গুরুতর জখম যাজক

344

প্যারিস: নিস শহরে সন্ত্রাসবাদী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার এক বন্দুকবাজ হামলা চালাল ফ্রান্সের লিওঁ শহরে। বন্দুকবাজের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন চার্চের এক যাজক (গ্রিক অর্থোডক্স প্রিস্ট)। যদিও লিওঁ প্রশাসন তাঁর নাম পরিচয় জানায়নি।

- Advertisement -

লিওঁ পুলিশ জানিয়েছে, এদিন বিকেল চারটা নাগাদ ওই যাজক চার্চ বন্ধ করছিলেন। সেসময় বন্দুকবাজ তাঁকে লক্ষ্য করে দু’বার গুলি চালায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন যাজক। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই লিওঁ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালেও ফ্রান্সের নিস শহরের নটারডাম চার্চের সামনে এক সন্ত্রাসবাদী ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনায় এক মহিলা সহ তিনজনের মৃত্যু হয়। মহিলার শিরোচ্ছেদ করা হয়। বেশকিছু মানুষ ঘটনায় জখমও হন। নিসের মেয়র ক্রিশ্চিয়ান এস্ত্রোসি ওই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অ্যাখ্যা দেন। তারপর এদিন ফের বন্দুকবাজের হামলার ঘটনা ঘটল ফ্রান্সেরই আরেক শহর লিওঁতে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ফ্রান্সের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। চলতি মাসের শুরুতেই সমস্যার সূত্রপাত। প্যারিসে স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক স্কুল শিক্ষক ক্লাসে মহম্মদের ব্যাঙ্গচিত্র দেখালে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করেন ১৮ বছর বয়সী চেচেন অরিজিন এক যুবক। শিরোচ্ছেদ করা হয় ওই শিক্ষকের। কিন্তু ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ব্যাঙ্গচিত্র আঁকা বন্ধ হবে না। তার পরপরই মুসলিম দেশগুলিতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সৌজন্যের তোয়াক্কা না করে ম্যাক্রোঁর সমালোচনা শুরু করেন। বাংলাদেশেও ‘বয়কট ফ্রান্স’ আন্দোলন শুরু হয়।

ব্যাঙ্গচিত্রে মহম্মদকে অপমান করা হয়েছে, সেই কার্যকলাপে মদত যোগাচ্ছেন এমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ, এমন অভিযোগ তুলে মুসলিম প্রধান দেশগুলিতে ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাকও দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ব্যাঙ্গচিত্র আঁকার জেরে কাউকে নৃশংসভাবে খুন কোনওভাবেই সমর্থন করা হবে না বলে জানান ম্যাক্রোঁ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ রুখতে ফ্রান্সের কঠোর অবস্থানের কথাও তিনি স্পষ্ট জানান। উগ্র মৌলবাদ ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ফ্রান্স কড়া অবস্থান নেওয়ায় মুসলিম বিশ্বে প্রবল সমালোচিত হন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

তবে উগ্র মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে খোলাখুলি সমর্থন জানায় ভারত। পাশাপাশি ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তীব্র সমালোচনাও করা হয়। এছাড়া নিস শহরে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরপরই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংকটের সময়ে ফ্রান্সের পাশে থাকা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথভাবে লড়াইয়ের ডাক দেন মোদি।

প্রথমে স্যামুয়েল প্যাটির শিরোচ্ছেদ, তারপর এক মহিলার শিরোচ্ছেদ সহ তিনজনকে হত্যা, আর এবার যাজকের ওপর হামলা। একের পর ঘটনা ঘটে চলেছে ফ্রান্সে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাক্রোঁ কী পদক্ষেপ করেন, সেদিক তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। তবে মুসলিম প্রধান দেশগুলিতে প্রবল সমালোচনা, প্রতিবাদ, আন্দোলনের মুখে পড়ে ম্যাক্রোঁ শনিবার আরবিতে টুইট করেন। তিনি লেখেন, ‘গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশকিছু জিনিস দেখেছি ও শুনেছি। কোনও ধর্ম নিয়ে আমাদের দেশে সমস্যা নেই। যে কেউ স্বাধীনভাবে তাঁর ধর্মাচারণ করতে পারবে। ফ্রান্সে শান্তিতে ও একসঙ্গে থাকতে আমরা সকলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’