জরাজীর্ণ নেতাজী পুর বাজারের ছাদে সবুজ ঘাসের চাদর

623
নেতাজি পুর বাজার ভবনের ছাদে ঘাস গজিয়ে উঠেছে।

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: সবুজ ঘাসের মোড়কে মোড়া বিস্তীর্ণ এলাকা। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক বহুতল। একপলকে দেখলে খেলার মাঠ ছাড়া অন্য কিছু মনে হবে না। তবে ভালো করে দেখলে বোঝা য়ায় মাঠ নয়, আসলে নেতাজি পুর বাজারের বিস্তীর্ণ ছাদ। সংস্কারের অভাবে গোটা ছাদে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় ঘাস। আর এই ঘাসের তলায় জমে রয়েছে বর্ষার জল। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি নেতাজি পুর বাজারের পুরাতন পাইকারি সবজি বাজারের ভবন। একই দশা মাছ বাজারেরও। এই জীর্ণ ভবন ভেঙে গড়ে উঠার কথা মাল্টিস্টোরেজ বহুতলের। পিপিপি মডেলে ইংরেজবাজার পুরসভা এই বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বছর দশেক আগে। আশায় বুক বেঁধেছিলেন নেতাজি পুর বাজারের হাজারো ছোট-বড় ব্যবসায়ী। তৈরি হয়েছে প্ল্যান, হয়েছে একাধিকবার মাটি পরীক্ষাও। কিন্তু ঠিক কী কারণে পুরসভা সুপার মার্কেট গড়ে তুলতে গড়িমসি করছেন, তা জানা নেই কারোরই।

মার্কেট কমিটির সম্পাদক মানিক জয়সোওয়াল অভিযোগ করে বলেন, ১০ বছর ধরে ইংরেজবাজার পুরসভা সুপার মার্কেট তৈরির কথা বলে ব্যবসায়ীদের বোকা বানিয়ে রেখেছে। আমরা ব্যবসায়ীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা ভবনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ছাদের ওপর গজিয়েছে ঘাস। কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই পুর কর্তৃপক্ষের। ব্যবসায়ীদের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে পুর প্রশাসক কমিটির সদস্য দুলাল ওরফে বাবলা সরকার বলেন, এই জমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্রশিল্প বিত্ত নিগমের। জমি যেহেতু এখনও হস্তান্তরিত হয়নি, তাই কাজ শুরু করা যায়নি। জেলা শাসক বিষয়টি দেখছেন। তবে ব্যবসায়ীরা যাতে দুর্ঘটনার মধ্যে না পড়ে তাই পুরসভা ছাদের তলায় টিনের শেড করেছে। আশা করি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা কাজে হাত লাগাতে পারব।

- Advertisement -

জেলার সর্ববৃহৎ পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ী কেন্দ্র হল নেতাজি পুরবাজার। এই বাজারে রয়েছে একাধিক ব্লক। একেকটি ব্লকে রয়েছে মাছ বাজার, সবজি বাজার, লোহার সামগ্রীর বাজার, মুদির খুচরো ও পাইকারি বাজার, সবজি বাজার, কাপড়ের বাজার। পাইকারি বাজার রেগুলেটেড মার্কেটে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকেই গোটা নেতাজি মার্কেটকে নবরূপে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে ইংরেজবাজার পুরসভা। ২০১০ সালে তৎকালীন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী মাছ বাজার ও পুরোনো সবজি পাইকারি বাজারকে মাল্টিস্টোরেজ বহুতল গড়ে সুপার মার্কেটে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেন। এই পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলার আশিস কুণ্ডু। ঠিক হয় এই বহুতল পিপিপি মডেলে গড়ে তুলবে ঠিকাদার সংস্থা। এই ঠিকাদার সংস্থার কাছ থেকে দোকান বুঝে নেবে ব্যবসায়ীরা। বহুতলে চলে আসবে একাধিক সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে বেসরকারি সংস্থার অফিস।

ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দপ্তরের বাস্তুকারেরা প্ল্যান তৈরি করেন। বাজারের বিভিন্ন অংশের মাটির পরীক্ষাও হয়। কিন্তু অজানা কারণে সেই কাজ থমকে য়ায়। পুরবোর্ডেও পালাবদল ঘটে। এইভাবেই ২০১৫ এবং ২০২০ পুরবোর্ডের দুটি টার্ম শেষ হয়ে যায়। সুপার মার্কেট তৈরির পরিকল্পনা চলে যায় বিশবাঁও জলে। এদিকে, এই ১০ বছরে পুর বাজারের ছাদগুলির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। ছাদের তলা খসে মরচে পড়া রড বেরিয়ে পড়েছে। চাঙড় ভেঙে আহত হচ্ছেন ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতারা।

নেতাজি পুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মানিক জয়সোয়াল আরও বলেন, আমাদের বাজারটি ইংরেজবাজার পুরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন। বাজারের জন্মলগ্ন থেকেই পুরসভা বাজারের জন্য কোনও কাজ করেনি। কিছু কাজ হয়েছিল প্রাক্তন পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর আমলে। বাজারের রাস্তা, নিকাশিনালা এমনকি আলোর ব্যবস্থাও ব্যবসায়ীরা নিজের টাকা খরচ করে করেছে। অথচ প্রতিমাসে এই বাজার থেকেই পুরসভা লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে থাকে। আমরা পুর ভবনগুলির ছাদ নতুন করে করার আবেদন জানালে পুরসভা বহুতল গড়ার কথা বলেন আমাদের। আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা ভেবে পুরসভার কথায় বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল আজও সুপার মার্কেট গড়ার ব্যাপারে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না পুরসভার। আমরা কোনও অভিযোগ করলেই মিডিয়া নিয়ে পুরপ্রধান অন্যদের নিয়ে বাজার পরিদর্শন করছেন। জানাচ্ছেন এই বর্ষা, ওই বর্ষা পার হলেই কাজ শুরু হবে। এখন আর তাঁদের কথা আমরা বিশ্বাস করি না। এবার দুর্ঘটনা ঘটলেই বাজার বন্ধ করে আন্দোলনে নামবে হাজারো ব্যবসায়ী। তখন আমরা পুরসভার কোনও কথা শুনব না।