ভূগর্ভস্থ জলস্তর কমছে শিলিগুড়িতে, চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা

244

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগেই কুয়োর জল তলানিতে ঠেকেছে। মার্চ মাসের শেষে সেই জলসমস্যা আরও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানের জল তো দূর, ব্যবহার করার জল তুলতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকার মানুষকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামীদিনে শিলিগুড়ির জন্য জলের সমস্যা আরও প্রকট হতে চলেছে। শিলিগুড়ি শহর যত বড় হচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শহরে জলের ব্যবহার, যার ফলে শহরে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের স্তর ক্রমশ নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, বড় আবাসন কিংবা মলগুলিতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নয়তো সেই আবাসান বা মল তৈরির প্ল্যান পাশ যেন না করা হয়। পাশাপাশি পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও বড় প্রকল্প নিতে হবে। অভিযোগ, শহর বড় হলেও এখনও পর্যন্ত কেউই সেভাবে জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। শিলিগুড়িজুড়ে বহু হোটেল, আবাসন ও মল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে জলস্তর হু হু করে নেমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়া শহরের বহু অংশেই পুকুর বা অন্য কোনও জলাশয় নেই। যেগুলি ছিল সেগুলিও ভরাট করে বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরি করা হচ্ছে। জলাশয় না থাকার জন্য বর্ষায় জল ধরে রাখার কোনও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা থাকছে না। এছাড়া বর্ষায় প্রচুর বৃষ্টি হলেও সেই জল ধরে রাখার জন্য কোনও প্রকল্প শহরে তৈরি হয়নি।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওলজি (ভূবিদ্যা) বিভাগের অধ্যাপক ডঃ কৌশিক সাহা বলেন, শিলিগুড়ি এখন পর্যটন হাব। নতুন নতুন হোটেল-মল গড়ে ওঠায় সেখানে প্রচুর জল প্রয়োজন হয়। পুরোটাই ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভর করে চলছে। তাছাড়া, শহরে জনবসতি ব্যাপক হারে বাড়ছে। সেখানে জলের ব্যবহারও ততই বাড়ছে।

কৌশিকবাবু আরও বলেন, এখানে সারাবছর ভালো বৃষ্টিপাত হয়। সেই জায়গায় এখানে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে পুনরায় ভূগর্ভে পাঠানোর ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের তরফে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আইন করে দিতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জিং-এর ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে পরিবেশপ্রেমী অনিমেষ বসু বলেন, ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী ১০ বছরে শিলিগুড়িতে চরম জলসংকটের মুখে পড়তে হবে। যেভাবে বড় বড় কারখানা বা আবাসন তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনও অনুমতি না নিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানীয় জল তুলে নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য কুয়োর জলের স্তর দিন-দিন নীচে নেমে যাচ্ছে।