রায়গঞ্জে উপাচার্যের গাড়ি আটকে অতিথি অধ্যাপকদের বিক্ষোভ

80

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখালেন অতিথি অধ্যাপকরা। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক হয়। অতিথি অধ্যাপকরা ভেবেছিলেন, বৈঠক শেষে তাঁরা সাম্মানিক বৃদ্ধির অ্যাপ্রুভাল সংক্রান্ত কাগজ পাবেন। কিন্তু তা না পেয়ে ক্ষুব্ধ অধ্যাপকরা উপাচার্য অনিল ভুইঁমালির গাড়ির সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে না পেরে বাধ্য হয়ে নিজের ঘরে ফিরে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন চলেছে। অ্যাপ্রুভাল না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অতিথি অধ্যাপকরা। তবে এব্যাপারে উপাচার্য অনিল ভুইঁমালির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে অতিথি অধ্যাপকরা স্যাক্টের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে তাঁদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় আপাতত ১৯ হাজার ৫০০ টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে এবং মার্চ মাসের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে তা চূড়ান্ত হবে। শনিবার ন্যাকের ভিজিট শেষ হওয়ার পর  এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসি মিটিং ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি অধ্যাপকরা আশায় ছিলেন পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো এদিনের মিটিংয়ে তাঁদের সাম্মানিকের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে এবং তাঁদের হাতে অ্যাপ্রুভাল দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু মিটিং শেষ হওয়ার পর তাঁরা হাতে অ্যাপ্রুভাল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। উপাচার্যর কাছে অতিথি অধ্যাপকরা এবিষয়ে জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু লাভ হয়নি। এরপর উপাচার্য যখন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অ্যাপ্রুভাল না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে বলে জানান তাঁরা। আন্দোলনে পিছু হঠেন উপাচার্য। তিনি গাড়ি থেকে নেমে নিজের ঘরে ফিরে যান। আন্দোলনকারীদের নেতা রাগিব আলি মিন হাজ বলেন, ‘এদিন আমাদের একটি অর্ডার পাশ হওয়ার কথা ছিল, কিন্ত তা হয়নি। অথচ উপাচার্য আমাদের কিছু না বলেই বেরিয়ে যাচ্ছেন। যে প্রতিশ্রুতি আমাদের দেওয়া হয়েছিল, তা রাখা হয়নি।‘

- Advertisement -

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবকুপার ইউনিট কনভেনর সঞ্জীব মণ্ডল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিথি অধ্যাপকদের আশ্বাস দিয়েছিল তাঁদের ১৯ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে। কিন্ত নির্বাচন বিধি লাগু হওয়ায় সে ব্যাপারে এদিনের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। সেজন্য তাঁরা আন্দোলনে বসেছেন। আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধানের। আপাতত অতিথি অধ্যাপকরা ১২ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।‘ এদিকে, নির্বাচনি বিধি লাগু হওয়ার পরও কেন ইসি মিটিং হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে এব্যাপারে সঞ্জীববাবু কিছু জানাননি।