অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নয়, নির্দেশ রাজ্যের

শিলিগুড়ি : করোনা সংক্রামিত হলেই আর ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতি এবং উপসর্গ দেখে তবেই প্রয়োজনভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। শুক্রবার নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দিল স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিবের সই করা এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, করোনা সংক্রামিত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল এবং কোভিড হাসপাতালে এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই পেঁছে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক সমাজদার বলেন, কিছু রুটিন অ্যান্টিবায়োটিক রোগীদের সবসময় দেওয়া হয়। নতুন নির্দেশিকায় রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে প্রয়োজনভিত্তিক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে সেটাই মেনে চলা হবে। করোনা সংক্রামিত হয়ে কোনও রোগী হাসপাতালে এলে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, যার মধ্যে অ্যাজিথ্রোমাইসিন অন্যতম। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনও দেওয়া হচ্ছিল। এর বাইরেও ভিটামিন সি, ভিটামিন-ডি সহ অন্যান্য ওষুধও দেওয়া হচ্ছিল রোগীদের। সমীক্ষা অনুয়াযী, কোভিড-১৯ একটি ভাইরাল রোগ। এই রোগ মোকাবিলায় অ্যান্টিবায়োটিকের তেমন কোনও ভূমিকা নেই। বরং যথেচ্ছভাবে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার রোগীর শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

- Advertisement -

কোভিডের চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্য, করোনা সংক্রামিতদের প্রথম থেকেই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রোগী করোনামুক্ত হয়ে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফেরার পরে শরীর ভীষণ দুর্বল থাকছে এবং তা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।