গর্ভে সন্তান নিয়ে করোনা যুদ্ধে সক্রিয় গুজরাটের নার্স

128

সুরাট : গর্ভে চার মাসের শিশু। এরসঙ্গে দিনভর রমজান মাসের রোজা রাখার ধকল। দুর্বল শরীরে সংক্রমণের ভয় সবচেয়ে বেশি, সেটা না জানার কথা নয় সুরাটের কোভিড কেয়ার ইউনিটের নার্স  ন্যান্সি আয়েজা মিস্ত্রির। কিন্তু এসব আশঙ্কা ছাপিয়ে তাঁর কাছে প্রধান হয়ে উঠেছে পেশাগত বাধ্যবাধকতা ও কর্তব্যবোধ। মরণাপন্ন রোগীদের কথা ভুলে বাড়িতে বসে থাকার মেয়ে ন্যান্সি নন। দুর্বল শরীরেও কোভিড ইউনিটে দিনরাত চড়কি পাক খাচ্ছেন তিনি অসুস্থ প্রবীণ-প্রবীণাদের তদারকিতে। কারও জ্বর মাপছেন, কারও মাস্ক লাগিয়ে দিচ্ছেন, কাউকে বা এগিয়ে দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। পেশার প্রতি একজন সাধারণ নার্সের এই দায়বদ্ধতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটাগরিকরা।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের যে রাজ্যগুলি বিপর্যস্ত, তাদের মধ্যে গুজরাটও রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর ভিড়। অথচ শয্যা, অক্সিজেন ও সাজসরঞ্জামের আকাল। এই অবস্থায় অসম্ভব একটা লড়াই লড়তে হচ্ছে কোভিড যোদ্ধা ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

- Advertisement -

এই প্রেক্ষিতে নিজের সুরক্ষার কথা না ভেবে দিনরাত কোভিড হাসপাতালের রোগীদের সেবা করে চলেছেন ন্যান্সি। এই মুহূর্তে সুরাটের অটল কোভিড-১৯ কেয়ার ইউনিটে কর্মরত তিনি। ন্যান্সি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার ওপর এখন রমজান মাস চলছে। সারাদিন কিছু না খেয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। ইউনিটে রোগীর ভিড় লেগেই আছে। রাজ্যের পরিস্থিতি শোচনীয়। করোনা সংক্রমণ বাড়ছে প্রতিদিন। এই অবস্থায় ছুটি নেওয়ার উপায় নেই। নিয়ম করে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা হাসপাতালে ডিউটি দিতে হচ্ছে ন্যান্সিকে।

গত বছর করোনা ভাইরাস ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন থেকেই এই কোভিড কেন্দ্রে ন্যান্সি কর্মরত। নিজের এবং সন্তানের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কোভিডবিধি কঠোরভাবে মেনে চলছেন তিনি। ন্যান্সি জানিয়েছেন, আমার গর্ভে সন্তান রয়েছে। কিন্তু আমার কাছে কাজের দায়িত্ব সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বরের কৃপায় পবিত্র রমজান মাসে আমি রোগীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছি। এটা আমার কাছে খুব বড় পাওনা। তবে ন্যান্সি নিজে মনে করেন, তিনি বিরাট কিছু করছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা করণীয়, সেই টুকুই তিনি করছেন, তার বেশি কিছু নয়। তাঁর কথায়, একজন নার্স হিসাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছি। এর বেশি ভাবছি না। ভয় করছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সাবধানতা অবলম্বন করে যা করার করছি। বাকিটা ওপরওলার হাতে।