করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত গুসকরা পুরসভার, এখনও পর্যন্ত শহরে আক্রান্ত মাত্র ১

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: দেশজুড়ে হুহু করে বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তবুও করোনা সেভাবে থাবা বাসাতে পারেনি পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভা এলাকায়। এখনও পর্যন্ত এই পুরসভা এলাকার মাত্র একজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থাপনায় গুসকরা পুরসভাই এখন কার্যত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই পূর্ব বর্ধমান জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে সাড়ে পাঁচশোর দোরগোড়ায়। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। তারপরেও সংক্রমণ বেড়ে চলায় জেলায় ১৭৬টি জায়গাকে কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার চার পুরসভা ও বেশকয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জারি করা হয়েছে লকডাউন। তার মধ্যে ব্যতিক্রম শুধুমাত্র জেলার গুসকরা পুরসভা এলাকা। এই জেলা সহ গোটা রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী থাকলেও, গুসকরা পুরসভা এলাকায় করোনা আক্রান্তের গ্রাফ একেবারেই নিম্নমুখী।

- Advertisement -

মারণ ভাইরাস করোনা ভারত সহ গোটা বিশ্বজুড়ে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। করোনার থাবা থেকে রেহাই পায়নি পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দারাও। পরিস্থিতির ভয়াবহতা পর্যালোচনা করে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিয়েছে গুসকরা পুরসভা কর্তৃপক্ষ। প্রথম থেকেই পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে লাগাতার জীবাণুনাশক স্প্রে করা শুরু হয়। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত মাইকিং করে চলছে পুরসভা এলাকার জনগনকে সচেতন করার কাজ।

শনিবার লকডাউনের মধ্যেও পুরসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে স্যানিটাইজেশনের কাজ চালিয়ে গেলেন পুরকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাসস্ট্যান্ড, বাজার, প্রতীক্ষালয়, পুরসভা অফিস এমন কি পুরসভা এলাকার অলিগলিতে প্রতিদিন নিয়মকরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। বিগত প্রায় চার মাস ধরে এই ব্যবস্থাপনা চালু থাকার কারণেই করোনা গুসকরা পুরসভা এলাকায় সেভাবে থাবা বসাতে পারেনি বলে মনে করছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। গুসকরার বাসিন্দারাও পুরসভার ব্যবস্থাপনায় খুবই খুশি।

গুসকরা পুরসভা এমন সাফল্য দেখালেও সম্পূর্ণ উলটো চিত্র জেলার বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া ও মেমারি পুরসভা এলাকায়। সংক্রমণের জেরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় এই চার পুরসভা এলাকা এবং জেলার বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় রবিবার থেকে টানা তিন দিন লকডাউন জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম নেই শুধুমাত্র গুসকরা পুরসভার। কারণ এই পুরসভা এলাকায় একজন মাত্র যে ব্যক্তির করোনা পজিটিভ ধরা পরেছে, তিনি ভিন রাজ্য থেকে গুসকরায় ফেরা একজন পরিযায়ী শ্রমিক। এর বাইরে গুসকরার স্থায়ী কোনও বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হননি। এখন সকল গুসকরাবাসীর একটাই লক্ষ্য, গুসকরাকে করোনা মুক্ত রাখা।

গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান বুর্ধেন্দু রায় এদিন বলেন, গুসকরা এলাকার মানুষজন নিজেরাই খুব সচেতন রয়েছেন। মুখে মাস্ক না পরে কেউ বাইরে বের হন লনা। পাশাপাশি পুরসভার কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার পুরসভা এলাকার সর্বত্র জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত মাইকিং করে এলাকায় এলাকায় সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সব কিছুর জন্যই গুসকরা পুরসভা এলাকায় করোনা সেভাবে থাবা বসাতে পারেনি। আক্রান্তের সংখ্যাও এক থেকে দুই আর হয়নি।

পুরসভার কর্মী চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগে মানুষজন যেভাবে বাইরে ঘোরাঘুরি করছিলেন, এখন তা অনেক কমে গিয়েছে। গুসকরার মানুষজন লকডাউন যেমন মানছেন, তেমনি স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলছেন।করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টিকে গুসকরা পুরসভা এলাকার বাসিন্দারাও চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। সবার সহযোগিতাতেই গুসকরা পুরসভা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পেরেছে।