চুল চেরা পরীক্ষা কথাটা আমরা প্রাযই বলে থাকি। সেটা ব্যোমকেশ বা ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি হোক, কিংবা অসুখ হলে বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষা অথবা হিসেব-নিকেশ, চুল চেরা পরীক্ষা ছাড়া ধরা পড়ে না কিছুই। কিন্তু সেই চুলেই যে সব রহস্য ঢুকে বসে থাকবে, সে কথা কে জানত!

অসুস্থ হলে সবার আগে আমাদের কিছু পরীক্ষা করাতে হয। কারণ রোগীকে কী ওষুধ দেওযা হবে তা জানতে দ্রুত রোগের লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যে পরীক্ষাগুলো করাতে হয তার মধ্যে রক্ত পরীক্ষা অন্যতম। সুচ ফুটিযে রক্ত নেওযা ব্যাপারটায একটা ভয় তো আছেই। তার সঙ্গে যাতে রোগ না ছড়ায সেজন্য সতর্কতাও রাখতে হয। এছাড়া সবচেযে বড়ো সমস্যা হয তখন যখন শিরা খুঁজে পাওযা যায না। ফলে দু-হাতে বিভিন্ন জাযগায সুচ ফোটাতে হয। সবমিলিযে একটা বিচ্ছিরি ব্যাপার। এই অভিজ্ঞতা জীবনে কক্ষনো হযনি এমন মানুষ পাওযাই যাবে না। তবে এবার চিকিৎসা জগতে এসবের দিন শেষ হতে চলেছে। অন্তত রাশিযার সাউথ উরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সে কথাই বলছেন।

শরীরে সুচ ফুটিযে রক্ত পরীক্ষার বদলে এখানকার বিজ্ঞানীরা সম্পূর্ণ অন্য একটি উপায আবিষ্কার করেছেন। রোগীর মাথার চুল পরীক্ষা করে তাঁরা রোগ নির্ণয করছেন। সাউথ উরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর ভাদিম সেইলিকমান জানিয়েছেন, রোগ নির্ণয়ে ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায মানুষের মাথার চুল কতটা কার‌্যকরী হতে পারে, আমরা সেটাই দেখাতে চাইছি।

কিন্তু কী কী রোগ ধরা পড়ছে এই পরীক্ষায় ? শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বুঝতে গবেষকরা চুল পরীক্ষা করছেন। তবে শুধু মানসিক চাপ পরীক্ষার ক্ষেত্রেই নয, চুলের অণু ও বিভিন্ন রাসাযনিক থেকে শুরু করে চুলের দৈঘর্য, ঘনত্ব, রং এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার, হৃদ্যন্ত্র এমনকি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও ধরা পড়ছে। গবেষকরা বলছেন, এতে রোগীর শরীর থেকে যতবার প্রযোজন নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব। বারবার রক্ত পরীক্ষায যে জটিলতা এবং অসুবিধাগুলো হয, এতে সেসবের কোনো ব্যাপারই নেই।

যদিও চুল পরীক্ষার মাধ্যমে লক্ষণগুলো বিচার করে কোন কোন রোগ নির্ণয করা যাচ্ছে, সেটা এই মুহূর্তে গবেষকরা পুরোপুরি বলতে পারছেন না। এজন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে আগামী দিনে আমরা হযতো এরকম দিন দেখতে যাচ্ছি, যখন হাসপাতালে গেলে কেউ সুচ হাতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসবে না।