বন্ধ হচ্ছে হলদিয়া গ্যাস সিলিন্ডার কারখানা, শ্রমিকদের বিক্ষোভ

139

রাজগঞ্জ: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিলিগুড়ির কাছে হলদিয়া গ্যাস সিলিন্ডার কারখানা। উত্তরকন্যার কাছে হলদিয়া প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে কারখানাটি আগামী ৭ অগাস্ট থেকে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়েছেন। বিষয়টি রাজ্যের লেবার কমিশনার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, সিলিন্ডারের বরাত নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তেল সংস্থাগুলির ওপর দোষ চাপিয়ে কারখানাটি বন্ধ করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, শ্রমিক বা শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬০ জন শ্রমিক কাজ করেন সেখানে। তাঁদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নিয়েও কোনও আলোচনা করা হয়নি।

হলদিয়া সিলিন্ডার কারখানায় মূলত সরকারি তেল সংস্থার অর্ডার অনুযায়ী রান্নার গ্যাস ও কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশে উল্লেখ করেছেন, সরকারি তেল সংস্থাগুলি ইন্ডিয়ান ওয়েল (আইওসি), ভারত পেট্রোলিয়াম (বিপিসিএল), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (এইচপিসিএল) থেকে পর্যাপ্ত অর্ডার পাচ্ছে না। এছাড়া ওই সংস্থাগুলি সর্বশেষ দরপত্রের দামের তুলনায় এনডিপি দাম ১২৫ টাকা কমিয়েছে। বিপিসিএলকে বেসরকারি করা হবে বলে তাঁদের অর্ডার দেওয়া সিলিন্ডার নিয়ে যাচ্ছেনা। প্রায় ৪০ হাজার সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলি আগের থেকে পঞ্চাশ শতাংশ অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে। যার ফলে গতবারের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ অর্ডার কমে গিয়েছে। ওই কারখানা বন্ধ করার পেছনে শ্রমিক সমস্যাকেও দায়ী করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শ্রমিকরা ন্যূনতম উৎপাদনের মান বৃদ্ধি করতে রাজি নন। শ্রমিক খরচ অন্যান্য কারখানার তুলনায় বেশি। এছাড়া গত ৩–৪ বছরে এলপিজি সিলিন্ডার তৈরির কারখানার সংখ্যাও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এইসব কারণে মালিকপক্ষ শিলিগুড়ির হলদিয়া গ্যাস সিলিন্ডার তৈরির কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি তুলেছেন ওই কারখানার শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। এদিন সংগঠনের তরফে ওই কারখায় বিক্ষোভ দেখানো হয়। আইএনটিটিইউসির ফুলবাড়ি ১ অঞ্চল সভাপতি ইয়ানুল হক জানান, প্রায় ৩০ বছর থেকে চলা ওই কারখানায় প্রায় ১৬০ জন স্থায়ী শ্রমিক কাজ করেন। অস্থায়ী শ্রমিকদের কর্তৃপক্ষ আগেই বের করে দিয়েছেন। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের রুজিরুটি বন্ধ হয়ে যাবে। মালিকপক্ষ আলোচনায় বসলে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে। সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করুক। এই বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কারখানার ডিরেক্টরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার কোয়ালিটি কন্ট্রোল ইনচার্জ দেবনীল সিংহ রায় জানান, সিলিন্ডার তৈরির অর্ডার নেই বললেই চলে। আগে প্রতিমাসে ৩০–৪০ হাজার সিলিন্ডার তৈরি হত। এখন মাত্র ৮ হাজার সিলিন্ডার তৈরি হচ্ছে। এভাবে কারখানা চালানো অসম্ভব। তাই মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

- Advertisement -