খাঁ খাঁ করছে মাজার, অচেনা হুজুর সাহেবের মেলার সাক্ষী হলদিবাড়ি

250

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: হুজুরের মাজারে এসে মানত করলে, ফল মেলে হাতে হাতে। এই বিশ্বাসকে মনে গেঁথেই হুজুর সাহেবের বার্ষিক উৎসব একরামিয়া ইসালে সওয়াবে আসেন হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে পুণ্যার্থীরা। মনবাসনার প্রাপ্তির আশায় ইসালে সওয়াবে উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় দলে দলে ভিড় করে লোকজন। করোনা এবার সব হিসেব পালটে দিয়েছে। এযেন এক অচেনা হুজুর সাহেবের মেলা। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনই খাঁ খাঁ করছে হুজুরের মাজার সহ মেলা প্রাঙ্গণ। মাজার সহ মেলা প্রাঙ্গণে সমাগম না হওয়ায় হতাশ মেলা কমিটি, হুজুরের বংশধর, ব্যবসায়ী থেকে গাড়ি চালক, সবাই। করোনার ভীতি যেভাবে গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে, তাতে এবার ভিড় যে পাতলা হবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি মেলা কমিটি সহ পুলিশ প্রশাসন।

অন্যান্যবার এই সময়ে হলদিবাড়ি-জলপাইগুড়ি রাজ্য সড়ক সহ হলদিবাড়ি শহরের প্রতিটি গলিপথে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যেত। সারি সারি গাড়ি, মিছিল করে পুণ্যার্থীদের এগিয়ে চলার দৃশ্য এবার উধাও। ট্রেন সহ যাত্রীবাহী বাস, আগে তাতে এক চান্সে ঠাঁই পাওয়াই ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। এবার অতিরিক্ত সরকারি বাস বরাদ্দ করা হলেও লোকের দেখা নেই। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের ভিড়ই বেশি। আগে মেলায় ঢোকার অনেক আগেই দাঁড়িয়ে পড়ত দূরদূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থী বোঝাই বাস। কারণ ভিড়ের ঠেলায় বেশি এগনো যেত না। এবার কোথাও দাঁড়াতে হচ্ছে না এই সব বাসকে। সরাসরি বাস চলে যাচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণে। মেলার এই ছবিই হতাশ করেছে সকলকে। শহরের ক্ষুদিরামপল্লী থেকে মাজার প্রাঙ্গণে যাওয়ার রাস্তার দু’ধারে দোকানিরা হরেক কিসিমের পসরা সাজিয়ে বসলেও, ক্রেতার দেখা নেই। বিক্রেতারা কেউ গালে হাত দিয়ে বসে আছেন, কেউ আবার হাতেগোনা পুণ্যার্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছেন।

- Advertisement -

প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে আগত রাজ্জাক ইসলাম নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘বেলা গড়িয়ে পড়লেও, পুণ্যার্থীদের সেই চেনা ভিড় নেই। কেনাবেচা একেবারেই হচ্ছে না। ধর্মগ্রন্থ বিক্রেতা সাদ্দাম হোসেন একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। তাঁর মতে, বছরের এই সময়টায় আমরা বাড়তি আয়ের আশায় থাকি। করোনা সেই সুযোগ কেড়ে নিল বলেই মনে হচ্ছে।’

হলদিবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘মেলার দুই দিনই সমান লোক হয়। কিন্তু এবার ভিড় একেবারেই নেই। লকডাউনের জেরে অনেকেই আর্থিক সমস্যায় পড়েন। তাই এবার লোকজন কম হবে, সেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। কিন্তু এতটা খারাপ হবে, তা ভাবা যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের জন্য কোভিড সুরক্ষায় কোনও খামতি রাখেনি মেলা কমিটি সহ ব্লক প্রশাসন। মাজার ও মেলা চত্বর স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। মাইকযোগে সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে। মাস্ক নিয়ে ঘুরছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কাউকেই বিনা মাস্কে ঘোরাফেরা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভিড় এড়াতে এবার দুইটি দান ঘরের ব্যবস্থা করা ও একাধিক জায়গায় মোমবাতি, ধুপকাঠি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়।’

মেলা কমিটির সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিগত সাত দশকেও মেলার এমন করুন চিত্র কেউ দেখেনি। লক্ষ লক্ষের পরিবর্তে এবছর হাজার দিয়ে পুরণার্থীর সংখ্যা নির্ণয় করতে হবে। তবে দ্বিতীয়দিন জুম্মাবার থাকায় পুরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশাবাদী। হলদিবাড়ি থানার আইসি দেবাশিস বসু বলেন, এখনও যা প্রবণতা, তাতে খুব বেশি ভিড় হবে না বলেই মনে হচ্ছে। এদিন শুধু মাজার চত্বর এলাকা মোমবাতি,ধুপকাঠি জ্বালানোর জন্য পুরণার্থীদের সামান্য ভিড় হয়। দেখা যাক, শুক্রবার শেষ দিন ভিড় কেমন হয়।‘