বিধানসভা ভোটের আগে হলদিবাড়ির উপহার ‘জয়ী সেতু’

1728

হলদিবাড়ি: আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে বছরের শুরুতেই হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দাদের নববর্ষের উপহার হিসেবে ‘জয়ী সেতুর’ উদ্বোধন হতে পারে। জানুয়ারি মাসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়েই জয়ী সেতুটি জনগনের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে দিনরাত এক করে জোরকদমে চলছে সেতুর অবশিষ্ট অংশের কাজ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলতি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কোচবিহারে আসার কথা রয়েছে। তার আগে জয়ী সেতুর কাজের বিষয় সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজখবর এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য নিতে হলদিবাড়ি আসছেন রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আগামী রবিবার তিনি জয়ী সেতু পরিদর্শন করবেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন বছরের গড়ার দিকে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেতুর উদ্বোধনের খবরে উচ্ছসিত মেখলিগঞ্জ বিধানসভার মানুষ।

- Advertisement -

পূর্ত দপ্তরের তিস্তা সেতু কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের হলদিবাড়ির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রীতম দাস বলেন, ‘সেতু সহ সংযোগকারী রাস্তার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করছি ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে এই কাজগুলি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।‘

ভৌগলিক দিক থেকে কোচবিহার জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হলদিবাড়ি ব্লককে আলাদা করে রেখেছে তিস্তানদী। তাই তিস্তানদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি উঠেছিল কংগ্রেস আমল থেকেই। পরবর্তীতে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও লোক দেখানো শিল্যান্যাস করে বহু বিধানসভা ভোটের বৈতরণী পার হয়েছে বাম বিধায়করা।

রাজ্যের পালাবদলের পর ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট হলদিবাড়ি হুজুর সাহেবের মাজার শরিফের মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সেতুর শিল্যান্যাস হয়। তিনি নিজে হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জবাসীর সেতু তৈরির আন্দোলনের স্মারক হিসেবে এই সেতুর নাম করণ করেন ‘জয়ী সেতু’। সেতুটি তৈরির জন্য ছিটমহল বিনিময় চুক্তির আর্থিক প্যাকেজের প্রায় ৪১০ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হলে হলদিবাড়ি থেকে মেখলিগঞ্জের দূরত্ব হবে মাত্র ১২ কিলোমিটার।

বর্তমানে হলদিবাড়ি ব্লকের সাধারণ মানুষকে জলপাইগুড়ি শহর, ময়নাগুড়ি হয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার ঘুরপথে মহকুমা শহর মেখলিগঞ্জে পৌঁছতে হয়। এতে সময় সহ অধিক পরিমাণে গাঁটের কড়ি খরচ হয়। দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। পেশায় শিক্ষক হলদিবাড়ি শহরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দত্ত জানান, যাতায়াতের দুর্ভোগের কারণে মেখলিগঞ্জ ব্লকের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে তেমন আগ্রহ দেখায় না হলদিবাড়ি ব্লকের মানুষ।

হলদিবাড়ি তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশন সূত্রে খবর, সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নদীটি পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত হলেও সেতুটি মাত্র ২.৭ কিমি দীর্ঘ তৈরি করা হয়েছে। সেতুর মাঝে যানবাহন চলাচলের জন্য ৭.৫ মিটার জায়গা রাখা হয়েছে। বর্তমানে পথবাতি লাগানো ও সেতুর ওপরের অংশে বিটুমিনের কাজ চলছে। রং করার কাজ বাকি রয়েছে। আগামী সপ্তাহে মেখলিগঞ্জের দিকে অ্যাপ্রোচ রোডের সঙ্গে সেতুটি জুড়ে দেওয়া হবে।

হলদিবাড়ি তিস্তা ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ডিভিশনের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রবিন সিং বলেন, ‘সেতুর পাশাপাশি শেষ পর্যায়ে চলছে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ। জয়ী সেতু থেকে হলদিবাড়ি শহরের কালীবাড়ি পর্যন্ত ৮ কিমি ও অন্যদিকে মেখলিগঞ্জের দিকে ২.৮ কিমি অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ করা হয়েছে।সেতু শেষ প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে চার কিমি দীর্ঘ আড় বাঁধ।‘

মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান বলেন, ‘আগামী রবিবার নির্মিয়মান জয়ী সেতুর কাজ খতিয়ে দেখতে হলদিবাড়িতে আসছেন রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের ভার প্রাপ্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরের গড়ার দিকে সেতুর উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।‘