নদীর পাড়ে আধপোড়া মৃতদেহ, চাঞ্চল্য তুফানগঞ্জে

332

তুফানগঞ্জ: তুফানগঞ্জ শহরের রায়ডাক শ্মশানে নদীর পাড়ে পরেছিল একটি আধপোড়া মৃতদেহ। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পার্শ্ববর্তী এলাকায়। আধপোড়া মৃতদেহটি কুকুর ও কাকে খুবলে খাচ্ছিল বলেও অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরে কোচবিহার বক্সিরহাট রুটের ৩১ জাতীয় সড়ক অবরোধ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা অবধি চলা অবরোধে জাতীয় সড়কে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। প্রচন্ড গরমে নাজেহাল হতে হয় নিত্যযাত্রীদের। জাতীয় সড়কে অবরোধকারীদের হটাতে তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দফায় দফায় পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের চলে বাক বিতন্ডা। অবশেষে পুলিশ শ্মশান এলাকা জীবাণুমুক্তের পাশাপাশি মরদেহ নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলে পথ অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা।

জানা গিয়েছে, তুফানগঞ্জ শহরের ৬ ওয়ার্ড ও কামাত ফুলবাড়ী এলাকার সংযোগস্থলে রয়েছে রায়ডাক নদীর চর। আর সেই চরকে বেষ্টন করে রয়েছে শ্মশান। এই শ্মশানে স্থায়ী দু’টো শবদাহের ব্যবস্থা রইলেও নদীর চর এলাকায় আরও একটি বাঁশের শবদাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে স্থানীয় মানুষজনের দাবি।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ আর্য বলেন, ‘আমার বাবা মঙ্গল আর্য নয়দিন আগে মারা গিয়েছেন। আমি প্রতিদিন রায়ডাক নদীর ঘাটে যাই প্রয়োজনীয় কাজ করতে। আজ নদী ঘাটে কাজ করতে গিয়ে দেখি একটি আধপোড়া মৃতদেহ নদীর ধারে পড়ে রয়েছে। আধপোড়া মৃতদেহটি কুকুর ও কাকে খুবলে খাচ্ছে। মরদেহ থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। ফলে কাজ না করেই আমি ফিরে আসি।‘

হারাধন আর্য নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘গত সোমবার একটি করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ রায়ডাক নদীর চরে পোড়ানো হয়েছিল। সেটি আধপোড়া অবস্থায় এদিন নদীর চরে ভেসে উঠেছে। মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছরাচ্ছে। মরদেহটি কুকুর ও কাকে খুবলে খাচ্ছে। আমরা করোনা আক্রান্ত মরদেহ পোড়ানোর সময় প্রশাসনকে বলেছিলাম, মরদেহ ঠিক ভাবে দাহ করতে হবে এবং দাহ কার্য হয়ে যাওয়ার পর ওই এলাকা দমকল কর্মীদের দিয়ে জীবাণুমুক্তের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, করোনা আক্রান্ত মরদেহ ঠিকভাবে পোড়ানো হচ্ছে না। ফলে আধপোড়া মরদেহ নদীর চর এলাকায় পড়ে রয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন আমাদের সাথে আলোচনায় বসে একটি সিদ্ধান্ত নিক। এছাড়াও আধপোড়া অবস্থায় থাকা মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হোক।‘

অন্যদিকে, এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা শ্মশান এলাকা জীবাণুমুক্ত করার দাবি তোলেন। দাবি পূরণ না হওয়া অবধি জাতীয় সড়ক থেকে তাঁরা এক প্রস্থও নড়বে না বলে হুংকার দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জাতীয় সড়ক অবরোধকারী সনেকা বর্মন বলেন, ‘আমরা শ্মশান এলাকায় থাকি। তাই বলে শ্মশানে আধপোড়া মরদেহ পড়ে থাকতে পারে না। অবিলম্বে আধপোড়া মরদেহটি সারানোর দাবি জানাচ্ছি।‘

তবে অনেকে মনে করছেন, গত সোমবার গভীর রাতে একটি করোনা আক্রান্ত মরদেহ পোড়ানো হয়েছিল। সেটি হয়তো অসাবধানতায় চিতা থেকে পড়ে যায়। এদিকে গত কয়েকদিনের পাহাড়ের ভারী বর্ষণে পাহাড়ি নদী হিসেবে পরিচিত রায়ডাক নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। এদিন সকালে নদীর জলস্তর কমে গেলে আধপোড়া মরদেহটি নদীর ধার বরাবর ভেসে ওঠে।

পাশাপাশি, এদিন তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, দমকল কর্মীদের দিয়ে শ্মশান এলাকা জীবাণুমুক্তের কাজ করা হয়েছে। আধপোড়া মরদেহটির পরীক্ষার জন্য কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মার্গে পাঠানো হয়েছে।