সুচন্দন কর্মকার, কালিয়াগঞ্জ : মাঝপথে কাজ ছেড়ে পালিয়েছে রাজ্যের নিজস্ব নির্মাণ সংস্থা। ফলে ভাঙাচোরা রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন দুটি পঞ্চায়েত এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা। কালিয়াগঞ্জ ব্লকের অনন্তপুর ও ধনকৈল পঞ্চায়েতের মনোহরপুর থেকে মিত্রবাটি পর্যন্ত ৮.২৫ কিমি রাস্তা নিয়ে বিপাকে এলাকার মানুষ।

২০১৭ সালে এই রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। নির্মাণের দায়িত্ব পায় রাজ্য পূর্তদপ্তরের ওয়েস্টিং হাউস স্যাকন-বিফার্মার লিমিটেড। প্রসঙ্গত, বাংলা সড়ক যোজনা প্রকল্পে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় এই রাস্তা নির্মাণের কথা। ভালোমানের কাজ হবে এই আশায় কালিয়াগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তার নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিল পূর্তদপ্তরের এই সরকারি সংস্থা। কালিয়াগঞ্জ শহরের ধনকৈল হাট হয়ে সুরষা হয়ে মনোহরপুর, তারপর বুড়িডাঙ্গি দিয়ে মুদাফৎ হয়ে পুরগ্রাম মোড় থেকে পশ্চিমে ধুক্করবাড়ি হাট দিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ছাড়িয়ে মিত্রবাটি গ্রাম শেষ হওয়ার কথা ছিল এই পাকা রাস্তাটি। প্রায় ১৫ কিমি এই রাস্তার অধিকাংশ পাকা রাস্তা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল গ্রামীণ পাকা রাস্তা নতুনভাবে গড়তে উদ্যোগী হয়েছিল কালিয়াগঞ্জ ব্লক প্রশাসন। সেই প্রস্তাব মেনে জেলাপরিষদের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। রাজ্য গ্রামোন্নয়ন শাখার উত্তর দিনাজপুর ডিভিশনে ২০১৭ সালে এই রাস্তার কাজের দায়িত্ব পায় দুটি সংস্থা। ধনকৈল হাট থেকে সুরষা হয়ে মনোহরপুর হাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব পায় রায়গঞ্জের এক ঠিকাদার সংস্থা।

- Advertisement -

এরপর মিত্রবাটি পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ পায় ওই সরকারি সংস্থা। মিত্রবাটির দিক থেকে মুদাফৎ-এর কইপুকুর পর্যন্ত রাস্তায় মেটাল বিছিয়ে দিয়েিল সরকারি সংস্থাটি। কইপুকুর থেকে মুদাফৎ গ্রামে অনন্তপুর পঞ্চায়েত অফিস দিয়ে বুড়িডাঙ্গি হয়ে মনোহরপুর পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে পাথর পরে থাকলেও তা বিছানো হয়নি। ফলে আগের ভাঙাচোরা রাস্তা দিনে দিনে বেহাল হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। বড়ো বড়ো খন্দ হয়ে এই রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ধনকৈল থেকে মনোহরপুর পর্যন্ত রাস্তার কাজ শেষ হলেও সরকারি সংস্থা মাঝপথে কাজ ছেড়ে যাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা। মুদাফৎ পোস্ট অফিসের মাস্টার শচীন্দ্রনাথ সরকার, পুরগ্রামের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি কাঞ্চন বর্মনদের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে নরকয়ন্ত্রণা ভোগ করছি এই রাস্তা নিয়ে। শুনছি নির্মাণ সংস্থা চলে গিয়েছে। এখন কী হবে এই ভাঙাচোরা রাস্তার, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাঁরা।

এই এলাকার বাসিন্দা টোটোচালক মনোজ সরকারের আকুতি, দাদা একটু দেখেন যাতে রাস্তাটা হয়। বাংলাদেশ সীমান্তের পুরগ্রাম থেকে সোজা এই রাস্তা এসে মিলেছে শহরের ধনকৈল হাটে। তার একটু আগে বাঁক নিলে মজলিশপুর দিয়ে শহরের সুকান্ত মোড়ে যোগাযোগ। কালিয়াগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ত এই গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল অন্তত ১০-১৫ হাজার মানুষের। সাইকেল, মোটর সাইকেল, টোটো ও ভুটভুটি, এই হচ্ছে চলাচলের পথের সঙ্গী। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিন উলটে যাচ্ছে যানবাহন। আহত হয়ে হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। ক্ষোভে ফুঁসছে সকলেই। কিন্তু পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদার অর্থাৎ সরকারি সংস্থাকে ধরে আনার পথ জানা নেই এলাকাবাসীর। শুধু এলাকাবাসী নয় এই রাস্তার কাজ মাঝপথে ছেড়ে পালানো সরকারি সংস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ উত্তর দিনাজপুর জেলাপরিষদের কো-মেন্টর অসীম ঘোষ। এব্যাপারে অসীমবাবু জানান, জেলাশাসকের কাছে এই রাস্তার বিষয়টি জানিয়েছি। রাস্তা নির্মাণ শেষ করতে বিকল্প ঠিকাদার সংস্থা নিয়োগের ব্যাপারে উদ্যোগী হতে জেলাশাসকের হস্তক্ষেপ এবং ওই সংস্থার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে আবেদন করা হয়েছে।