মডেল ভিলেজ যেন স্বপ্ন, পারডুবিতে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে বাড়ি

দেবাশিস দত্ত, পারডুবি : মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের পারডুবি পঞ্চায়েতের ঘুটুরটারি সংলগ্ন কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে গীতাঞ্জলি প্রকল্পের ঘর তৈরির কাজ আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লক ও পারডুবি পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানে কলোনি এলাকায় সরকারি উদ্যোগে মডেল ভিলেজ তথা আবাসন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুতিনটি পরিবারের ঘরের কাজ শেষ হলেও বাকিগুলি এখনও অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে।

পারডুবি পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে ওই এলাকায় তৎকালীন বিডিও এম ডি লামা সহ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েত প্রধানকে নিয়ে কমিটি তৈরি হয়। ওই কমিটি এলাকায় গীতাঞ্জলি আবাস প্রকল্পে ২৩টি বাড়ি তৈরি করে মডেল ভিলেজ তৈরির পরিকল্পনা নেয়। কলোনির বাসিন্দা মালতী দাস ও ভারতী মণ্ডল জানিয়েছেন, প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছিল তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে এবং সেই টাকা তুলে ঘর তৈরি করা হবে। ওই প্রকল্পের উপভোক্তা সন্ধ্যাবালা বর্মন বলেন, কাজ শুরু হওয়ার সময়ে আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭০ হাজার টাকা করে ঢোকে। ঠিকাদার আমাদের অ্যাকাউন্ট থেকে তড়িঘড়ি সেই টাকা তুলে নেন। কিন্তু আদতে কাজ হয়নি। কলোনির বাসিন্দা ষষ্ঠী সাহা বলেন, কাজ না হওয়ার কারণ জানতে পঞ্চায়েতে গেলে বিডিও অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হত। আর সেখানে গেলে পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান অশোক বর্মন বলেন, এলাকার ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের কথা ভেবে ওই সময়ে মডেল ভিলেজের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ফান্ড না আসায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। একই কথা জানিয়েছেন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার কার্তিক সরকারও। তিনি বলেন, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা ৭০ হাজার টাকার মধ্যে কাঠ ও টিন কেনা বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা শেষ হয়ে যায়। তত্কালীন বিডিও অপর একটি ফান্ডে টাকা আসবে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা আসেনি।

- Advertisement -

এদিকে, মডেল ভিলেজের উপভোক্তা মালতী দাস জানিয়েছেন, তাঁদের ভোটার কার্ড থাকলেও র‌্যাশন কার্ড নেই। অনেকের আধার কার্ডও নেই। এর ফলে তাঁরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কথা জানান অপর উপভোক্তা গৌরাঙ্গ দাস। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরাও তোপ দেগেছে। সিপিএম নেতা সুচিত্র সরকার বলেন, এলাকায় মডেল ভিলেজের পরিকাঠামো তৈরির কথা থাকলেও তা হয়নি। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রতাপ সরকার বলেন, যে ঘরগুলি হয়েছে সেগুলি আসলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর। গত বিধানসভা নির্বাচনে কলোনি এলাকায় জমির পাট্টা দিয়ে ঘর করে দেওয়া হবে বলে তৃণমূল এলাকাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পাট্টা দেওয়া হলেও ঘরের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন বলেন, বিরোধীরা মিথ্যে অপবাদ ছড়াচ্ছে। তৎকালীন বিডিও বদলি হওয়ার পরই কাজ আটকে ছিল। পরবর্তীতে যে বিডিও এসেছেন তিনি উদ্যোগী না হওয়ায় কাজ এগোয়নি। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লক আধিকারিক রজতরঞ্জন দাস বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোচবিহারের জেলা শাসক পবন কাদিয়ানও এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন।