মাথাভাঙ্গার অর্ধসমাপ্ত মার্কেট কমপ্লেক্স এখন কার্যত জতুগৃহ

108

বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : পরিকল্পনার অভাবে মাথাভাঙ্গা বাজার এখন জতুগৃহে পরিণত হয়েছে। দুদশক আগে মাথাভাঙ্গা বাজারে দোকানপাট ভেঙে ধাপে ধাপে আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হলেও আজ পর্যন্ত কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। বাজারের একাংশে মার্কেট কমপ্লেক্সের স্টল তৈরি হলেও গোটা বাজারজুড়ে রয়ে গিয়েছে কাঠ ও টিনের দোকান। এছাড়াও বাজারের চারদিকে রয়েছে পাট ও তামাক সহ বিভিন্ন পণ্য মজুত রাখার অনেক গোডাউন। অসম্পূর্ণভাবে পড়ে থাকা মার্কেট চত্বরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী সমিতি এবং মাথাভাঙ্গা চেম্বার অফ কমার্স। দমকল বিভাগের আশঙ্কা, মাথাভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় কোনও জলাধার, পুকুর এমনকি ফায়ার হাইড্র‌্যান্ট না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেবে।

মাথাভাঙ্গায় দমকলকেন্দ্র থাকলেও বাজার এলাকায় বিগত এক দশকে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে দমকলকর্মীদের জলের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। শহরের বেশিরভাগ পুকুর ভরাট হয়ে গিয়েছে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসাই নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় জলের সমস্যা আরও বেড়েছে। মাথাভাঙ্গার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারে একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। মাথাভাঙ্গা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সঞ্জীব পোদ্দার বলেন, বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরি অত্যন্ত জরুরি। মাথাভাঙ্গা চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, মাথাভাঙ্গার প্রাক্তন বিধায়ক বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জলাধার তৈরির জন্য অর্থবরাদ্দ করলেও পুরসভা জমির ব্যবস্থা করতে না পারায় সেই অর্থ ফেরত যায়।

- Advertisement -

মাথাভাঙ্গা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, জমির অভাবে বিধায়কের দেওয়া জলাধার তৈরির টাকা ফেরত গিয়েছে এটা ঠিক। নতুন পরিকল্পনায় বাজারের ভিতরে ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হবে। মাথাভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন এলাকায় আগে দুটি পুকুর ছিল। একটি জংলি কালীবাড়ির সামনে অপরটি মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির পাশে। জংলি কালীবাড়ির সামনের পুকুরটি দীর্ঘদিন আগে শহরের নিরাপত্তার অজুহাতে ভরাট করে শিশু উদ্যান তৈরি করেছে পুরসভা। মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির পাশের পুকুরটিতে সুইমিং পুল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জমি সংক্রান্ত ঝামেলায় সুইমিং পুল তৈরির কাজ শেষ হয়নি। মাথাভাঙ্গা শহরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের দুটি ফায়ার হাইড্র‌্যান্ট রয়েছে। যদিও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে জল সংগ্রহের জন্য ফায়ার হাইড্র‌্যান্টের জলও পর্যাপ্ত নয়।

মাথাভাঙ্গার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মন বলেন, বাজার নিয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, অবিলম্বে বাজারে ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরির বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্যোগী হব।