করোনাকালে অর্ধেক পড়ুয়াই মানসিক চাপে ভুগেছে

64

নয়াদিল্লি : করোনাকালে জাতি-ধর্ম ও বয়স নির্বিশেষে অল্পবিস্তর সব মানুষকেই মানসিক চাপের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে করুণ দশা হয়েছে কচিকাঁচাদের। আচমকা ঘরবন্দি হয়ে পড়ায় তাদের মনের অবস্থা শোচনীয়। ৯ থেকে ১৭ বছরের পড়ুয়াদের প্রায় অর্ধেকই হতাশায় ভুগছে বলে সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে। এদের অনেকেই মানসিক চাপ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে ওই সমীক্ষায়। এর কারণ হিসাবে সমীক্ষকরা পড়াশোনায় আকস্মিক ছন্দপতন, বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, রোজকার জীবনের একঘেয়েমি ও একাকিত্ব এবং পরিবারে আচমকা অনটন তৈরি হওয়াকেই দায়ী করেছেন।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ১৩টি শহরের ৯ থেকে ১৭ বছরের পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের হালহকিকতের খোঁজ নিতে যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালিয়েছিল টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ইউ (ক্রাই)। করোনা মহামারিতে শিশুদের অভিজ্ঞতা জানতেই এই সমীক্ষা করা হয়। সেই সুবাদে ৮০০ জনের সঙ্গে কথা বলে তারা দেখেছে, করোনার দিনগুলিতে কমবয়সি পড়ুয়াদের প্রায় ৫০ শতাংশই মানসিক চাপ ও চাপা আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছে। অলস জীবনযাপনের সুবাদে পড়ুয়াদের ৬০ শতাংশ মোটের ওপর খুশি থাকা, ৭৮.৯ শতাংশ ভালো খাওয়াদাওয়ার আনন্দ এবং ৭৪.৯ শতাংশ শান্তিতে ঘুমানোর সুখ-এর কথা বললেও তাদের প্রায় অর্ধেক (৪৮.৭ শতাংশ) দৈনিক কাজকর্ম ওলটপালট হওয়ায় চাপ বাড়ার কথাও স্বীকার করেছে। পড়ুয়াদের অন্তত ৪১.৯ শতাংশ উদ্বেগ বা অস্থিরতা এবং ৪২.৫ শতাংশ একঘেয়েমির কথা জানিয়েছে।

- Advertisement -

আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়ারা যে করোনার দিনগুলিতে শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে, তাও ধরা পড়েছে ওই সমীক্ষায়। করোনায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা ধাক্কা খাওয়ায় পড়ুয়াদের অন্তত ২৪ শতাংশ অনিশ্চয়তায় এবং ২৬ শতাংশ মানসিক চাপে ভুগছে। করোনা সংক্রামিত হয়ে পড়লে কী হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ২৩.৫ শতাংশ পড়ুয়ার মধ্যে।