দেশের সেরা মহিলা কৃষক মালদার হালিমা

হরষিত সিংহ, মালদা : সারা দেশের মধ্যে টানা পাঁচ বছর ডাল চাষে সেরা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে এই বছর সেসবকে পেছনে ফেলে দেশের মধ্যে ভুট্টা চাষে সেরা হল পশ্চিমবঙ্গ। মূলত উত্তরবঙ্গের ভুট্টা চাষের উপর নির্ভর করেই সেরা নির্বাচিত হয়েছে রাজ্য। সেরা দুই ভুট্টা কৃষকের একজন মালদা জেলার এক মহিলা ও অপর চাষি উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা। গৌড়বঙ্গের এমন জোড়া সাফল্যে খুশির আমেজ কৃষিদপ্তরেও।

ভুট্টা চাষে দেশের সেরা মহিলা কৃষক হিসাবে কৃষি কর্মণ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হলেন মালদার হালিমা বিবি। পাশাপাশি তিনিই রাজ্যের প্রথম মহিলা যিনি এই পুরস্কার লাভ করতে চলেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করেই এই সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ভুট্টা চাষে দেশের সেরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। সেই সুবাদে রাজ্যের দুই ভুট্টাচাষিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই কৃষি কর্মণ পুরস্কার দেওয়া হবে। তার মধ্যে মহিলা কৃষক হিসাবে এই সম্মান পাচ্ছেন হালিমা। পুরুষ ভুট্টাচাষি হিসাবে দেশের সেরা হয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের বিকাশচন্দ্র বর্মন। তিনিও এই কৃষি কর্মণ পুরস্কার পেতে চলেছেন। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষি কর্মণ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার মধ্যে মালদা জেলার এক মহিলা কৃষক দেশের সেরা পুরস্কার পাওয়ায় খুশি জেলা ও ব্লক কৃষিদপ্তরের কর্তা-আধিকারিকেরা।

- Advertisement -

পুরস্কার পাওয়ার খবরে খুশি ইংরেজবাজার ব্লকের নরহাট্টা পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীঘাট গ্রামের বাসিন্দা হালিমা বিবি ও তাঁর পরিবার। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে হালিমা বিবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পুরস্কার প্রদানের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। পুরস্কার হাতে পাওয়ার আশায় এখন দিন গুনছেন হালিমা বিবি। হালিমা বিবির স্বামী জাকির হোসেন একজন ছোটো ব্যবসায়ী ও কৃষক। নিজের প্রায় ১০ বিঘা চাষের জমি রয়েছে। সেখানেই ৫ বিঘা জমিতে গত ৫ বছর ধরে ব্লক কৃষিদপ্তরের সাহায্যে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করছেন হালিমা বিবি। তিনি জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে ব্যাপক ফলন বেড়েছে। তারই সুবাদে জেলা কৃষিদপ্তরের তরফে আমার নাম পাঠানো হয়েছিল। জেলা কৃষিদপ্তরের পক্ষে ১৫টি ব্লক থেকে একজন করে মহিলা ভুট্টাচাষিদের নিয়ে একটি বাছাই প্রক্রিয়া করা হয়। সেখানেই সফল হন হালিমা বিবি।

হালিমা বিবি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আমাকে ভুট্টা চাষের জন্য পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। আমি খুব খুশি। এই পুরস্কার আমায় আগামীতে ভুট্টা চাষে আরও উত্সাহিত করবে। আমি আমার আশেপাশের কৃষকদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষের পরামর্শ দেব। মালদা জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ বাড়ছে ভুট্টা চাষের পরিমাণ। এমনকি ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ কৃষকেরই এই আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ২০১৬-১৭ সালে মালদা জেলায় খরিফ মরশুমে ভুট্টা চাষ হয়েছিল প্রায় ১,০৪৯ হেক্টর, রবি মরশুমে চাষ হয়েছিল ৮,১৭২ হেক্টর ও গ্রীষ্মের মরশুমে চাষ হয়েছিল ৭,৯৭২ হেক্টর। কিন্তু ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে জেলায় সেই চাষের পরিমাণ বাড়ে। সেখানে খরিফ মরশুমে চাষ হয়েছিল ১,৪৭২ হেক্টর জমিতে, রবি মরশুমে চাষ হয়েছিল ২৬,৫৪৫ হেক্টর ও গ্রীষ্মের মরশুমে চাষ হয়েছিল ১০,০৪০ হেক্টর জমিতে।

ইংরেজবাজার ব্লক কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হালিমা বিবি সহ বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের নিয়মিত ভুট্টা চাষের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাঁদের সমস্ত রকমের সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। বিনা কর্ষণ পদ্ধতিতে চাষের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব ভারতে সবজি বিপ্লব আনয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি মরশুমে ১০০ হেক্টর ভুট্টা জমিকে প্রদর্শনী ক্ষেত্র করা হবে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সকারের বেশ কিছু প্রকল্পের মাধ্যমে আরও কিছু জমিকে প্রদর্শনী ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। ইংরেজবাজার ব্লক কৃষিদপ্তরের সহ কৃষি অধিকর্তা সেফাউর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত কৃষকদের সব রকমের সাহায্য করছি। রাজ্যে ও দেশে এবার ভুট্টা চাষে মহিলা কৃষক হিসাবে আমাদের ব্লক থেকে কৃষি কর্মণ পুরস্কার পাচ্ছে। এটি আমাদের গর্বের বিষয়। আমরা চাই, আমাদের জেলায় আগামীতে হালিমা বিবির মতো আরও অনেকে পুরস্কার পাক।