কলা গাছের সুতো থেকে তৈরি হচ্ছে ঘর সাজানোর জিনিস

827

সৌরভ রায়  হরিরামপুর : পাটের সুতো কেটে তৈরি হত ধোকড়া বা ধোকড়। দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজবংশী সমাজের বাড়ির মেয়ে বউরা সেই কাজ করে থাকেন। কিন্তু কলা গাছের ছাল ছাড়িয়ে তার থেকে সুতো তৈরি করে সুন্দর জিনিস তৈরির খবর খুব একটা শোনা যায় না। কিন্তু এমনই অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছেন হরিরামপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামের হস্তশিল্পী ভূপেন দেশি, তাঁর স্ত্রী সুকো দেশি ও তাঁদের মেয়ে যূপি দেশি। তিনজনই হস্তশিল্পী। পাট কেটে সুতো তৈরি করে সেই সুতোর ধোকড়া, ব্যাগ, নানা ধরনের খেলনা তৈরি করে ইতিমধ্যে ওই শিল্পীরা রাজ্যের বহু জায়গায় সরকারি মেলায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু কলা গাছের ফেলে দেওয়া অংশ থেকে সুতো বের করে সেই সুতোয় ব্যাগ তৈরি করে অবাক করে দিয়েছেন এই তিন শিল্পী।

ভূপেন দেশি জানান, সব কলা গাছ থেকে এই সুতো বের হয় না। মানিক কলা, মধুয়া কলার আঁশ সরু করে কেটে প্রথমে রোদে শুকোতে হয়। অন্য কলার আঁশ শক্ত বলে ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। শুকিয়ে যাওয়ার পরে সেই আঁশকে হাতে কাটতে হয় সুতোর মতো করে। সুতো সরু ও পাতলা করেই করতে হয়। আবার বেশি হলে পাটের থেকে সুতো তৈরির মতো করেও কাটা যায়। সেই সুতো দিয়ে তৈরি হচ্ছে ব্যবহারের ব্যাগ। এছাড়াও তৈরি করা হচ্ছে টেবিল ম্যাট থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর নানা ধরনের জিনিস। যূপি দেশি বলেন, পাটের সুতো যতটা শক্ত ততটাই শক্ত কলা গাছের ছাল ছাড়িয়ে তৈরি সুতো। কলা গাছের কলা কেটে নেওয়ার পরে ওই গাছের ভেতরে থোড় ছাড়া সবটাই ফেলে দেবার জিনিস। পাট কিনে সেই পাট থেকে সুতো তৈরি করতে খরচ হয় অনেক টাকা। কিন্তু কলা গাছ থেকে সুতো তৈরি করতে সময় ছাড়া অন্য কিছু লাগে না। তবে সব সময় খোঁজ রাখতে হয় কোথায় কলা গাছ কাটা হচ্ছে। তাঁরা জানান, কলা গাছের সুতো দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কিছু জিনিস তৈরি করা হয়েছে। কোনোটার ক্ষেত্রেই রং উঠে যাওযা বা সহজেই ছিঁড়ে যাওযার ঘটনা ঘটেনি। তুলনায় পাটের থেকে কিছুটা হালকা ও সাদা রং পাওয়া যায় কলা গাছের সুতো থেকে। ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি হলেও এখনও ধোকড়া তৈরির কাজ শুরু হয়নি। ভূপেন দেশি জানান, ধোকড়া তৈরি করতে পারলে সেটা হবে এই সময়ে সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁর এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দিনাজপুরের অন্যতম ধোকড়া তথা লোকশিল্পী মহিষবাথান গ্রামের আকুলবালা সরকার। তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মহিষবাথান গ্রামীণ হস্ত সমবায়ে কর্ণধার পরেশ সরকার বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ধোকড়ার চাহিদা বাড়ছে বাজারে। তার সঙ্গে কলা গাছের ছাল থেকে তৈরি সুতোয় ব্যবহারের জিনিস বাজারে এলে তার চাহিদা আরও বাড়বে সন্দেহ নেই।

- Advertisement -