পর্যটক আসছেন না, পেট চালানো দায় ডুয়ার্সের হস্তশিল্পীদের

287

নাগরাকাটা : করোনার জেরে রথের মেলা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকরাও আসছেন না। সারাবছরের ভরসা রাজ্যস্তরের হস্তশিল্প মেলাও অনিশ্চিত। ফলে কার্যত অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন ডুয়ার্স ও লাগোয়া এলাকায় প্রায় ২ হাজার হস্তশিল্পী। একমুঠো ভাত জোগাড়ের আশায় অন্য কাজের খোঁজে বেরোতে হচ্ছে শিল্পীদের। কেউ কেউ অন্য কাজ পাচ্ছেন, কেউ আবার এখনও নিজের কাজ আঁকড়ে ধরেই স্বপ্ন দেখছেন সুদিন ফিরবে। কবে দুঃসময় কাটবে, এখন সেই আশাতেই বসে হস্তশিল্পীরা।

মেটেলির নেতাজিপাড়ার বাসিন্দা ৬৫ বছরের আনসার আলি। একটি দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি চলাফেরায় সাবলীল নন। ছোট থেকে শিল্পকর্মের নেশা ২০০৫ থেকে তাঁর পেশায় পরিণত হয়। গাছের গুঁড়ি, শিকড় থেকে বিভিন্ন অবয়ব (কাটুমকুটুম) তৈরি করে এতদিন রুটিরুজি জোগাড় করেছেন। কিন্তু লকডাউনের পর থেকে আনসার আলির ৮ জনের পরিবারে হাঁড়ি চড়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি হাল ছাড়েননি, এখনও বানিয়ে চলেছেন কাটুমকুটুম। রবিবার আনসার বলেন, আগে পর্যটকরা বাড়ি এসে কিনে নিয়ে যেতেন। একজন এলেই কয়েক দিনের খরচ উঠে আসত। রথের মেলাতেও প্রতি বছর ভালো বিক্রি হত। এছাড়া নভেম্বরের গোড়ায় কলকাতায় হস্তশিল্প মেলা থেকেও সারা বছরের আয়ের বড় অংশ উঠে আসত। আনসার বলেন, এখন কীভাবে দিন চলছে তার খবর কেউ রাখে না। আর কতদিন এভাবে সংসার চলবে জানা নেই। ডুয়ার্সের চিলৌনি চা বাগানের আরেক কাটুমকুটুম শিল্পী ধীরেন দোরজি এখন চা বাগানে কাঁচা পাতা তোলার কাজ করেন। সামসিংয়ের নওরাজ প্রধান কিংবা মূর্তির প্রীতম দোরজি সকাল হলে ঝোলায় করাত-বাটালি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কাঠমিস্ত্রির কাজ খুঁজতে। সেই কাজও সব দিন জোটে না। নাগেশ্বরী চা বাগানের দোকান লাইনের পক্ষাঘাতগ্রস্ত আরেক শিল্পী পদমলাল দোরজি বলেন, শারীরিক কারণে অন্য কাজ জোটানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। হাতের কাজ করে যাও বা কিছু আয় হত, করোনা তাও কেড়ে নিয়েছে। কীভাবে বেঁচে থাকব, বুঝতে পারছি না।  কথা বলতে বলতে চোখের কোণ চিকচিক করে ওঠে বাঁশ ও কাঠশিল্পী পদমলালের। একই অবস্থা ডুয়ার্সের নানা এলাকার বেতশিল্পীদের। চালসার অদূরে শালবাড়ি মোড়ে সরকারি উদ্যোগে শিল্পীদের সামগ্রী বিক্রি করার একটি স্টল তৈরি করে  দেওযা হয়েছিল। সেটাও এখন বন্ধ। ওই হস্তশিল্পীরা জানান, পেশা বদল করে অন্য কাজে যোগ দেওয়া মানসিকভাবে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। বয়সের কারণে অনেকের পক্ষে নতুন পেশা খুঁজে নেওযা অসম্ভব। শিল্পীদের একটাই দাবি, অন্তত যে কদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন অন্তত সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াক।

- Advertisement -