কোয়ারান্টিনে থাকা ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার রাঙ্গালিবাজনায় 

280

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: কোয়ারান্টিনে থাকা এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের মধ্য রাঙ্গালিবাজনায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হোম কোয়ারান্টিনে থাকার জন্য কাজের খোঁজে বেরোতে পারছিলেন না তিনি। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশও জানায়, কাজ করতে না পারায় আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হন জগদা। ফলে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ছাড়াও দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ঘটনার তদন্তে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং, জয়েন বিডিও রাজমণি রায় প্রমুখ।

বিহারের পূর্ণিয়ায় সপরিবারে ইঁটভাটা শ্রমিকের কাজ করতেন জগদা। লকডাউন চলাকালীন তাঁরা বাড়ি ফিরলে পরিবারটিকে শিশুবাড়ি হাইস্কুলের কোয়ারান্টিনে রাখা হয়। কোয়ারান্টিন সেন্টার থেকে তারা ছাড়া পেয়েছিলেন শনিবার। এদিকে, ওই মহল্লার‌ই এক যুবক করোনার উপসর্গ নিয়ে ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাই কোয়ারান্টিন থেকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও স্থানীয়রা ওই এলাকার কয়েকটি পরিবারকে হোম কোয়ারান্টিনের ব্যবস্থা করে দেয়। বাঁশ পুঁতে বাড়িগুলি ঘিরেও দেওয়া হয়। কিন্তু জগদা ওরাওঁ বাড়িতে থাকতে চাইছিলেন না বলে জানান স্থানীয়রা। রবিবার দুপুরে মহল্লার অদূরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে ঝুলতে দেখা যায় জগদাকে। জগদার স্ত্রী আশা ওরাওঁ বলেন, ‘পাড়ার ছেলেরা আমার স্বামীকে বলেছিল বাইরে বেরোলে মার দেওয়া হবে। অবশ্য ওরা গায়ে হাত তোলেনি। আমিও আমার স্বামীকে বাইরে বেরোতে নিষেধ করি।’ মারুফ আজিজ নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, শনিবার থেকে ভীষণভাবে চাপে রাখা হয়েছিল পরিবারটিকে। তবে, ওই পরিবারের ওপর কোনওরকম চাপ দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

- Advertisement -

অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাজিদ আলমও। তিনি বলেন, চাপ দেওয়ার মতো কোনও ঘটনাই  ঘটেনি। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। বিডিও শ্যারণ তামাংও বলেন, ‘এ ধরনের কোনও ব্যাপার নেই বলে জানা গিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে।’ মাদারিহাট থানার ওসি টিএন লামা বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সম্প্রতি কাজ না পেয়ে আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।’ মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারটি দু’মাস ধরে মাসে পঁচিশ কেজি করে চাল ও এক কেজি করে ডাল পাবে। খাদ্য দপ্তর ওই কুপনও দিয়েছে। এদিন ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সাধ্যমত সহযোগিতার আশ্বাস দেন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম।