শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি, ৭ জুলাই : রাত বাড়ার সঙ্গেই হিলকার্ট রোডকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হচ্ছে যৌনকর্মীদের চক্র। এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে বিপদে পড়ছেন একশ্রেণির মানুষ। দিনের পর দিন যৌনকর্মীদের এই বাড়বাড়ন্ত দেখে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত এই অবৈধ চক্র বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

শিলিগুড়ির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হিলকার্ট রোড শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা। রাত যত বাড়ে, কর্মব্যস্ত এই রাস্তার দুধারের ফুটপাথে বাড়তে থাকে মহিলাদের আনাগোনা। পুরনিগমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রজনীকান্ত সরণি সংলগ্ন হিলকার্ট রোডের ফুটপাথে হাজির হচ্ছেন কয়েকজন মহিলা। সঙ্গে টোটো নিয়ে হাজির হচ্ছেন কয়েকজন চালক। মহিলাদের চোখের ইশারায় শুরু হয় ক্রেতা ধরার পালা। ইশারায় সাড়া দিতেই দেওয়া হচ্ছে শর্ত। বলা হচ্ছে, সামনেই ঘর রয়েছে। সতর্কতা হিসেবে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা টোটোতে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে। ৫০০ টাকাতেই সব কাজ হয়ে যাবে। শর্ত হিসেবে টাকা দেওয়ার পর ওই মহিলাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে টোটোতে উঠতেই শুরু হচ্ছে ফাঁদে জড়ানোর প্রক্রিয়া। টোটোয় যাওয়ার পথে জলের সঙ্গে মদ মিশিয়ে এক বোতল খদ্দেরের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরপর খদ্দেরের থেকে সতর্কতার জন্য ২০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সামনের  রুম হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিষিদ্ধপল্লির সামনে।

এরপর সেখানে ঢোকার জন্য ওই খদ্দেরের কাছে নতুন করে আরও ২০০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে নরম সুরে নয়, অনেকটা কড়া সুরে। এরপর কেউ বিপদ বুঝে নিষিদ্ধপল্লিতে ঢুকতে না চাইলে দেওয়া হচ্ছে হুমকি, আমরা তিনবাত্তি থেকে এই ব্যবসা করতে আসি। ১২ হাজার টাকা দিয়ে নিষিদ্ধপল্লিতে ঘর ভাড়া নিয়েছি। তাই সময় নষ্টের টাকা দাও। নইলে নিষিদ্ধপল্লি সংলগ্ন হোটেলে চলো, সেক্ষেত্রে নতুন করে ৩০০০ টাকা দিতে হবে। পুলিশ, প্রশাসন হাতে রয়েছে। এখানেই শেষ নয়, টোটোয় আসা মহিলা এবারে হেঁটে হিলকার্ট রোডের দিকে এগোতেই টোটোচালকের তরফে খদ্দেরের কাছে ভাড়া হিসেবে চাওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। না দিতে চাইলেই পুলিশে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি।

বিষয়টি নজরে এসেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলার তথা ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার পিন্টু ঘোষের। তাঁর কথায়, আসলে গোটাটাই দালালচক্র। হিলকার্ট রোড থেকে এভাবে মানুষকে ফাঁদে ফেলে ওই দালালগুলো এখানে নিয়ে এসে লুঠ করছে। এমনকি ওদের কথা মতো টাকা দিতে না চাইলে পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাতের দিকে হিলকার্ট রোডের ওই এলাকায় আড্ডা দিতে আসা শুভ দাসের কথায়, আমার এক বন্ধু এই চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। কোনোভাবে সেই যাত্রায় সে বেঁচে এসেছে। সকলের সামনে এই চক্র চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিধান রোড ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বাবলু তালুকদার বলেন, আমরা হিলকার্ট রোড ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে এই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি অভিযানের জন্য স্মারকলিপি দিয়েছি। আট মাস আগে পুলিশ একবার ওই মহিলাদের আটক করে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফের এই চক্র কাজ শুরু করেছে।

পুরনিগমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মঞ্জুশ্রী পাল বলেন, রজনীকান্ত সরণির বাসিন্দারাও আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমরা আগেও পুলিশ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এবারে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসনের উচিত যত দ্রুত সম্ভব এই চক্র বন্ধ করা। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, আমাদের কাছে এরকম একটা খবর রয়েছে। এই চক্র বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।