রেলকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ আরপিএফের বিরুদ্ধে

354

আসানসোল: আরপিএফের হাতে হেনস্তার শিকার হলেন রেলকর্মী। সোমবার আসানসোল ডিআরএম অফিসের ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের কন্ট্রোলের রেলকর্মী সুমেশ সিং আসানসোল ডিআরএম অফিসে আধিকারিকের কাছে যাওয়ার সময় আরপিএফের জওয়ানদের হাতে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ।

ক্যান্সার আক্রান্ত সুমেশ সিংকে আরপিএফের জওয়ানরা মারধর করে জামা ছিঁড়ে দেয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের ডিআরএম অফিস চত্বরে এদিন চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আরপিএফের তরফে হেনস্তা বা মারাধর করার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের তরফে বলা হয়েছে, সুমেশ সিং ডিআরএমের গাড়ি অফিসে বা ডিভিশনের সদর দপ্তরে ঢোকার মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তাকে সরাতে গিয়ে সামান্য ধস্তাধস্তি হয়েছে। মারামারির কোনও ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনায় আহত ওই রেল কর্মী সোমবার দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করান।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, আসানসোলের বাসিন্দা সুমেশ সিং হাওড়া ডিভিশনের কন্ট্রোল অফিসে চতুর্থ শ্রেণীর পদে কাজ করেন। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত সুমেশ সিং গত সপ্তাহে আসানসোলে বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শনিবার তিনি ডিআরএম অফিস এসেছিলেন রেল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো ও ছুটি নেওয়ার জন্য জি ৮ ফর্ম তুলতে। কিন্তু শনিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কেউ না থাকায় তিনি ফিরে যান। সোমবার সকালবেলা তিনি আবার ডিআরএম অফিসের গেটের কাছে এলে আরপিএফ তাকে আটকায়। তিনি তার পরিচয় পত্র ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হওয়ার কাগজ আরপিএফ জওয়ানদের দেখান। আরপিএফের নির্দেশ মতো সে ডিভিশনাল অপারেশন ম্যানেজার(কোল) রাজেশ কুমারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অফিসের ভিতরে ঢোকার অনুমতি পান বলে তিনি দাবি করেন। এরপরেও গেটে থাকা আরপিএফ জওয়ানরা সুমেশ সিংকে নাম, ঠিকানা, কোথায়, কেন, কার কাছে যাবে তা লিখতে বলে। তখন সুমেশ বলে আমি অতো লেখাপড়া জানি না। আপনি লিখে দিন। আমি সই করে দিচ্ছি। এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরে তার সঙ্গে আরপিএফের বচসা শুরু হয়। এরপরেই আরপিএফ জওয়ানরা তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ।

সুমেশ বলেন, আমি ব্লাড ক্যান্সারের রোগী হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চোরের মত মারছেন কেন? এ রকম সময় ডিআরএমের গাড়ি অফিসে ঢুকছিল। আমি তাকে অভিযোগ জানাতে গাড়ির সামনে গেলে আমাকে আরপিএফ ধরে দূরে ঠেলে দেয়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ডিআরএম অফিসে আসেন আরপিএফের আসানসোল ওয়েস্ট পোস্টের ইন্সপেক্টর ধর্মেন্দ্র কুমার পান্ডে। তিনি বলেন, আরপিএফের জওয়ানদের সঙ্গে ওই ব্যক্তি খারাপ ব্যবহার করেছিল। মারামারির কোনও ঘটনা ঘটেনি। আর ডিআরএমের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করায় তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরপিএফের আসানসোল ডিভিশনের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার চন্দ্রমোহন মিশ্র বলেন, ডিআরএম অফিসে অন্য ডিভিশনের কোন রেলকর্মী আসলে অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই কাজটা করতে গিয়ে এই কর্মীর হয়তো কয়েক মিনিট দেরি হয়েছে। আজকের ঘটনা তার সম্মানে লেগেছে। তা নিয়ে আরপিএফের সঙ্গে তার বচসা শুরু হয়। জানতে পেরেছি আরপিএফকে সে গালিগালাজ করে। সেখানে সেই সময় ডিআরএম পৌঁছান। তখন ডিআরএমের কাছে অভিযোগ করতে যাওয়ার জন্য তার গাড়ির সামনে এসে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন তিনি। তখন আরপিএফ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তবুও পুরো ঘটনা আমরা তদন্ত শুরু করেছি।