ব্যাংক ঋণ পেতে হয়রানি, শিল্প গড়তে পারছেন না উদ্যোগীরা

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ারে বেশ কিছু ব্যাংকে ঋণ পেতে উদ্যোগীদের চূড়ান্ত হয়রান হতে হচ্ছে। ফলে নতুন শিল্পোদ্যোগীরা চড়ান্ত হতাশ। ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে অনেকেই বেকারত্ব ঘোচাতে চাইলেও ব্যাংকের দরজায় ঘুরে ঘুরে তাঁদের স্বপ্নের সেই উদ্যোগ শুরুতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। আলিপুরদুয়ার জেলা শিল্পকেন্দ্রের ম্যানেজার বিভাস বসু বলেন, জেলার কামাখ্যাগুড়ির একটি ব্যাংকে গত কয়েক বছরে কোনও উদ্যোগীকে ঋণ দেওয়া হয়নি। ঋণের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। শিল্প দপ্তর থেকে সুপারিশ করে পাঠানোর পরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে এ রকম ঘটনা ঘটেছে। ফলে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগীরা অনেকেই হতাশ। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বেশি সংখ্যক উদ্যোগীকে যাতে শিল্প করতে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা ও বৈঠক করছি। আলিপুরদুয়ারের লিড ব্যাংক ম্যানেজার প্রকাশ বড়ুয়া বলেন, যোগ্য কোনও উদ্যোগী ব্যাংক ঋণ পেতে যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা শিল্প দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ছয় মাসের মধ্যে কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা পাঁচজন ব্যাংক ঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র শিল্প গড়তে উদ্যোগী হয়েছিলেন। উদ্যোগীদের প্রকল্পগুলি অনুমোদন দিয়ে দপ্তর ব্যাংক ঋণের জন্য কামাখ্যাগুড়ি একটি ব্যাংকের শাখায় সেই প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। প্রত্যেকটি উদ্যোগের ক্ষেত্রেই ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করা হয়নি। ফলে ওই নতুন উদ্যোগীদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এতে উদ্যোগীদের পাশাপাশি বিরক্ত শিল্প দপ্তরের আধিকারিকরাও। আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দে বলেন, জেলায় এখনও শিল্পতালুকের পুরো পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে জেলায় প্রায় ৫০০ জন উদ্যোগী বিক্ষিপ্তভাবে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে নিজেদের রুজিরুটি করতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁরা বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। অসম-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন এই জেলায় শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নতুন উদ্যোগীদের ঋণ দিতে কিছু ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রেই টালবাহানা করছে। জেলায় বেকারত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ক্ষুদ্র উদ্যোগ যাঁরা গড়তে চান তাঁরা ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা পেলে নিজেদের রুজিরুটি ছাড়া আরও কিছু বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেন।

- Advertisement -

তিনি বলেন, জেলার অধিকাংশ ব্যাংকগুলি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ঋণ দিলেও নতুন উদ্যোগীদের সেভাবে সহযোগিতা করছে না। আলিপুরদুয়ার জেলায় একদিকে চা বলয়, ফরেস্ট ছাড়াও কৃষিজীবী বহু মানুষ রয়েছেন। কৃষিনির্ভর শিল্প ছাড়াও পর‌্যটন শিল্পের মাধ্যমেও এই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সবক্ষেত্রেই পরিকাঠামো গড়তে যে মূলধন দরকার, তা অনেকের কাছেই নেই। শিল্পের জন্য জেলায় প্রযোজনীয় জমি, সুলভ শ্রমিক পর‌্যাপ্ত রয়েছে। যদিও জেলা শিল্প দপ্তরের এক আধিকারিক দাবি করেছেন, আগের তুলনায় জেলায় শিল্পের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। তবে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা কাটিয়ে সংখ্যাটা আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর টার্গেট রয়েছে।