তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তেজনা হরিশ্চন্দ্রপুরে, আক্রান্ত ২

123

হরিশ্চন্দ্রপুর: নির্বাচন ঘোষণার আগেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ব্য়াপক উত্তেজনা ছড়াল মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে। তাও আবার থানার মূল ফটকে। তৃণমূল যুব’র হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ দুই কর্মী কৌশিক সিংহ ও দীপক পাসওয়ানকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তিতে শাসকশিবির। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা।

বৃহস্পতিবার রাতে গণ্ডগোলের ঘটনা ঘটেছে। পরে অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঘটনায় আক্রান্ত দুজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মানিক দাসের অনুগামী বলে পরিচিত সাহেব দাস দলবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ আক্রান্ত কৌশিক সিংহের। যদিও গোটা ঘটনাটি সাজানো বলে দাবি করেছন অপর গোষ্ঠীর যুব তৃণমূল নেতা সাহেব দাস। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল যুব’র হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমানের দলবল নেই। তাই আমাদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক নিজের গোষ্ঠীতে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাতে যুব সভাপতি জিয়াউর রহমানের কিছু দলবল মদ‍্যপ অবস্থায় ছিল। তারা নিজেরাই গণ্ডগোল বাধিয়েছে।’

- Advertisement -

এদিকে, গোটা ঘটনাটি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল যুব’র সভাপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওরা তো তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে বিজেপি হয়ে কাজ করছে। তারা তৃণমূলে থাকলেও দলের নীতি আদর্শ জানে না।’

হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মানিক দাস অবশ‍্য বলেন, ‘কর্মীদের মধ‍্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তা দলের অন্দরেই মিটিয়ে নেওয়া হবে।’ তবে একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে আশায় বুক বাঁধছে বিজেপি।

মালদা জেলা বিজেপি কমিটির সম্পাদক কিষান কেডিয়া কটাক্ষ করে বলেন, ‘রাজ‍্যে তৃণমূল দলটা আর থাকছে না। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে বুঝে নিজেদের মধ‍্যে লড়াই চালিয়েছে যাচ্ছে।’ তবে তারা বিজেপির কর্মী নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। শাসকদলকে কাটমানির সরকার বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। থানার সামনে এমন ঘটনা ঘটার পরেও প্রশাসন নীরব কেন? শাসক বলেই কি নীরব, প্রশ্ন জেলা বিজেপির।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, ‘ঘটনায় এখনও লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।’