নির্মাণের পরই বেহাল রাস্তা, ক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতা

171

হরিশ্চন্দ্রপুর: নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ল রাস্তা। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ তৃণমূল যুব নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের মহেন্দ্রপুরে। এদিকে রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস। যদিও সবটাই কংগ্রেসের চক্রান্ত বলে দাবি তৃণমূলের।

মহেন্দ্রপুরে পঞ্চায়েতের তরফে লক্ষাধিক টাকা খরচ করে ৭০ মিটার রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়। এদিকে বেহাল রাস্তায় যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই রাস্তা নির্মাণের দায়িত্ব যে ঠিকাদার সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল তিনি স্থানীয় তৃণমূল যুব নেতার ভাই। এদিকে নবনির্মিত রাস্তা এভাবে ধসে পড়ায় তৃণমূল যুব নেতা রুস্তম আলি এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেলে তাঁকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। ক্ষোভ, হাতাহাতিতে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে এলাকা। এমনকি ওই তৃণমূল যুব নেতার বিরুদ্ধেও গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে। পরে দলের অন্য নেতারা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে মোটা অঙ্কের টাকা কাটমানি খেয়েছে ওই তৃণমূল যুব নেতার ভাই। এই বিষয়ে তৃণমূল যুব-র সহ সভাপতি রুস্তম আলি জানান, এই রাস্তা দুই বছর আগে তৈরি হয়েছে। রাস্তা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়নি। এসব কংগ্রেসের চক্রান্ত। নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে গিয়েছে। তাই মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

- Advertisement -

কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি আব্দুস শুভানের পালটা দাবি, তৃণমূলের নেতারাই এখন ঠিকাদার। আর তৃণমূলের নেতারা ঠিকাদার হলে কিরকম কাজ হবে সেটা সবাই জানে। কাটমানি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। এটি অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা। যা ভেঙে পড়ায় বহু মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতটাই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয়েছে যে ছয় মাসের মধ্যে রাস্তা ভেঙে পড়ল। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হচ্ছে তৃণমূল। হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এর জয়েন্ট বিডিও বিপ্লবকুমার ঘোষ জানান, এলাকাবাসীর তরফে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ হয় সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।