হরিশ্চন্দ্রপুরে ভোট প্রচারে দেওয়াল দিতেও ‘ভারসাম্য’ রাখছেন মধ্যবিত্তরা

122

হরিশ্চন্দ্রপুর: আসন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে শুরু হয়েছে দেওয়াল লিখন। শাসকদল তৃণমূল ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার অধিকাংশ দেওয়াল দখল করে নিয়েছেন। প্রার্থীর নাম ছাড়াই চলছে প্রতীক দিয়ে দেওয়াল লিখন। কিন্তু এর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর সদরের অধিকাংশ বাড়ির দেয়ালগুলি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। একভাগে শাসক তৃণমূল জোড়া ফুল আঁকছে আবার দেওয়ালের অন্য ভাগে প্রার্থী ছাড়াই পদ্মের ছবি। এলাকার বিভিন্ন দেওয়াল গুলিতে এইভাবে ভাগ করে দেওয়াল লিখনের জেরে গুঞ্জন দেওয়াল লিখনে কি তবে দুই দল সমঝোতা করে লিখছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেল এর পিছনে কারণ আলাদা। হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকার বাসিন্দারা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কোন দলকে খুশি করতে চান না। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ির মালিকরা তাদের নিজের বাড়ির দেওয়াল এই দুই দলের হাতে ভাগ করে তুলে দিচ্ছেন। কারণ এই রাজনৈতিক ব্যাপারে কোন দলের কাছে খারাপ হয়ে কোনো দীর্ঘ শত্রুতায় জড়াতে চান না এলাকার ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারের।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা মোড় কিংবা হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা অথবা চাঁচল হরিশ্চন্দ্রপুর জাতীয় সড়কের ধারে গেলেই একাধিক দেওয়ালে দেখতে পাওয়া যাবে একটি দেওয়ালকে ভাগ করে মূলত এই দুই দল নিজেদের প্রচার চালাচ্ছে। রাজ্য রাজনীতিতে একে অপরের শত্রু হলেও এক দেওয়ালে প্রচার করতে পিছু হটছে না এই দুই দল। হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা তথা এক দেওয়াল মালিক দীপক দাস বলেন, ‘আমি আমার বাড়ির দেওয়াল তৃণমূল বিজেপি ছাড়া অন্যান্য দলের জন্য বরাদ্দ রেখে দিই। কারণ সবাই আমার পরিচিত কাউকে চটিয়ে তো লাভ নেই।’

এপ্রসঙ্গে বিজেপির হরিশ্চন্দ্রপুর মণ্ডল সভাপতি রুপেশ আগারওয়ালা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল নিতে গিয়ে বাড়ির মালিকের অনুমতি নিতে হচ্ছে। বাড়ির মালিকের লিখিত অনুমতি নিয়ে তবেই আমরা সেখানে দলের প্রচার করছি। তবে অনেকক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি এলাকার অনেক বাড়ির মালিক সম্পূর্ণ দেওয়াল আমাদেরকে দিচ্ছেন না ভাগাভাগি করে দিচ্ছেন। শাসকদলের নেতাদের হুমকির মুখে পড়বেন বলেই হয়ত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে চিন্তা নেই সামনের বিধানসভা ভোটে আমরা সরকার গঠন করব। এবং এলাকায় আবার শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে।’

জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন, ‘আমাদের সমস্ত কর্মীকে বলা আছে তাঁরা যেন বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুমতি নিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজ করে। আমরা হুমকি দিয়ে কাজ করি না। সব জায়গায় আমাদের পরিচিতি আছে, লোকসভায় ভালো ফল করেছি আমাদের হুমকি দেওয়ার মতো কিছু নেই। এখানে বিজেপির কোনো চিহ্ন নেই। তৃণমূল মানুষের মনে বসে আছে। এগুলো সব ভুয়ো কথা।‘