হরিয়ানা সরকারের নির্দেশে ক্ষুব্ধ অলিম্পিকগামী অ্যাথলিটরা

রোহতক : সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য মুচলেকা দিয়ে জানাতে হবে কোনও যৌন হেনস্তা বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে নাম জড়ায়নি। কোনও সাধারণ মানুষ নয়, এমন মুচলেকা চাওয়া হয়েছে অলিম্পিকের টিকিট পাওয়া অ্যাথলিটদের কাছ থেকে। হরিয়ানা প্রশাসনের এমন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সে রাজ্যের অ্যাথলিটরা।

হরিয়ানা থেকে ইতিমধ্যে ১৯ জন টোকিওর টিকিট পেয়েছেন। বক্সিংয়ে অমিত পাঙ্গাল, পূজারাণী ভোরা, মণীশ কৌশিক, বিকাশ কৃষ্ণান, ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে নীরজ চোপড়া, রাহুল রোহিলা, সন্দীপ পুনিয়া, শুটিংয়ে মানু ভাকের, যশস্বীনী দেসওয়াল, অভিষেক ভার্মা, সঞ্জীব রাজপুত এবং কুস্তিতে ভিনেশ ফোগত, অংশু মালিক, সোনম মালিক, সীমা বিসলা, বজরং পুনিয়া, রবি দাহিয়া, দীপক পুনিয়া ও সুমিত মালিক। গত বছর অগাস্টে মনহরলাল খট্টরের সরকার জানায়, অলিম্পিকের টিকিট পাওয়া অ্যাথলিটদের প্রস্তুতির জন্য রাজ্য প্রশাসন ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে। ৫ লক্ষ গেমসের আগে এবং বাকিটা টোকিও থেকে ফেরার পর। এই টাকা পুরো পাওয়ার জন্যই ওই মুচলেকা দিতে হবে। মুচলেকা প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে প্রত্যায়িত করতে হবে। সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী, কেউ মিথ্যে মুচলেকা দিলে তাঁর থেকে অনুদানের টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, বক্সার অমিত ছাড়া কেউই প্রথম পর্বের টাকা হাতে পাননি।

- Advertisement -

সরকারের এমন কথাতেই চটেছেন অ্যাথলিটরা। ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে যৌন হেনস্তা এবং ফৌজদারি অপরাধ-এর মতো শব্দবন্ধ কীভাবে যোগ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। অ্যাথলিট সন্দীপ পুনিয়ার কথায়, আমরা দেশের জন্য খেলতে নামি। এজন্য আমরা গর্বিত। বহু মহিলা ক্রীড়াবিদ গেমসের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁদের এমন মুচলেকায় সই করতে বলাটা অপমানজনক। তাঁর সতীর্থ রাহুল রহিলার বক্তব্য, এমন শব্দ বাদ দেওয়া উচিত। এর কোনও মানে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা কুস্তিগির বলেছেন, আমরা রক্ষণশীল সমাজ থেকে উঠে এসেছি। আমার তো ওই মুচলেকা বাবার হাতে তুলে দিতেও লজ্জা করছিল। এই বিষয়টি যোগ করা ঠিক হয়নি। সাইয়ের গ্রিন জোনে থাকা অ্যাথলিটরা কীভাবে ওই মুচলেকা ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে প্রত্যায়িত করাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সন্দীপ।