বুধবার থেকে শুরু হাটে-বাজারে এক্সপ্রেস, ব্রাত্য একলাখী জংশন

1619

গৌতম দাস, গাজোল: করোনা পরিস্থিতির আগে মালদার গুরুত্বপূর্ণ একলাখী জংশন থেকে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ এবং বিহার হয়ে নেপাল যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেনের স্টপেজ ছিল। কিন্তু করোনাকালে বন্ধ হয়ে যায় প্রায় সমস্ত যাত্রীবাহী ট্রেন। আনলক পর্যায় শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন চালু হলেও একলাখী জংশনে সেই সমস্ত ট্রেনের স্টপেজ ছিল না।

বুধবার থেকে নতুন করে বেশ কয়েকটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম একটি ট্রেন হাটে-বাজারে এক্সপ্রেস। নেপাল সীমান্ত সহর্ষা থেকে শিয়ালদহ যাওয়ার এই ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একলাখী সহ বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ এই ট্রেনটি ধরে একদিকে যেমন কলকাতা যেতে পারতেন তেমনি চোখের চিকিৎসার জন্য নেপাল যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ছিল এই ট্রেনটি।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করার পর একলাখী জংশনে এই ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে উপকৃত হয়েছিলেন এই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এদিন থেকে নতুন করে আবার এই ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য স্টেশনে স্টপেজ থাকলেও একলাখী জংশনে এই ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়নি। আর এই খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীরা। এদিন এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল করে একলাখী জংশন স্টেশন মাস্টারের হাতে অবিলম্বে হাটে-বাজারে এক্সপ্রেসের স্টপেজের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করেছেন।

এলাকার বাসিন্দা স্বপন রায়, অমিত বাঁশফোর বলেন, ‘দীর্ঘদিন আন্দোলন করার পর হাটে-বাজারে এক্সপ্রেসের স্টপেজ দেওয়া হয়েছিল একলাখী জংশনে। করোনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল ট্রেন। এদিন থেকে আবার নতুন করে বেশ কিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম হাটে বাজারে এক্সপ্রেসের স্টপেজ একলাখী জংশন থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে চলেছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।‘

এদিন আরও বলেন, ‘একদিকে কলকাতা এবং অন্যদিকে নেপাল যাওয়ার একমাত্র ট্রেন হাটে বাজারে এক্সপ্রেস। একলাখী থেকে তুলে নেওয়ায় এখন এই এলাকার মানুষকে বাসে করে ওইসব জায়গায় যেতে হবে। যার ফলে চরম সমস্যা হবে সাধারণ মানুষের। তাই এদিন আমরা মিছিল করে স্টেশন মাস্টারের কাছে ডেপুটেশন দিলাম এই ট্রেনের স্টপেজ এর দাবিতে। আমাদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। এলাকাবাসীদের দাবির সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বৈরগাছি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুবোধ সরকার। তিনি জানালেন এলাকাবাসীর দাবির সাথে তিনি একমত। তাই এলাকাবাসীর আন্দোলনে তিনিও সামিল হয়েছেন।‘

একলাখী জংশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট রামাধার সিং বলেন, ‘আগে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ কিংবা কাটিহারের দিকে যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেনের স্টপেজ একলাখী জংশনে ছিল। হাটে বাজারে এক্সপ্রেসের স্টপেজ ও এখানে ছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এদিন থেকে আবার শুরু হয়েছে বেশকিছু প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলাচল। হাটে বাজারে এক্সপ্রেস ও চলছে। কিন্তু নতুন যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে একলাখী জংশনে হাটে-বাজারে এক্সপ্রেসের স্টপেজ তুলে নেওয়া হয়েছে। এরফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা কিছুটা হলেও অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন। ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে তাঁরা এদিন আমার কাছে একটি ডেপুটেশন দিয়েছেন। আমি তাদের দাবি পত্র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।‘