ক্রীড়ানৈপুণ্যে জেলার সেরা স্কুলের তকমা পাচ্ছে গাজোলের হাতিমারি হাইস্কুল

431

গাজোল: ক্রীড়ানৈপুণ্যে জেলার সেরা স্কুলের তকমা পাচ্ছে গাজোলের হাতিমারি হাইস্কুল। করোনা পরিস্থিতির জেরে এবার শিক্ষক দিবসের দিন রাজ্যস্তরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হচ্ছে না। জেলায় জেলাশাসকের দপ্তরে থেকেই বিভিন্ন বিভাগের সেরা স্কুলগুলিকে পুরস্কৃত করা হবে। স্কুলের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি সকলেই। তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য যেহেতু স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা আসছে না তাই প্রত্যক্ষভাবে তারা উৎসবে অংশ নিতে পারছে না। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে স্কুলের এই সাফল্যের বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল জেলাশাসকের দপ্তরে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্তকুমার ঘোষ।

গাজোল ব্লকের এক প্রত্যন্ত এলাকায় স্থাপিত হয়েছিল হাতিমারি হাইস্কুল। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সিংহভাগই তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলোকেও স্কুলের তরফে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হত। আর তার ফলেই খেলাধুলোয় নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে এই স্কুল। ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন খেলাধুলোয় জেলা এবং রাজ্যস্তরে বড় সাফল্য পেয়েছে এই স্কুল। যার মধ্যে সেরা সাফল্য গত বছর অনূর্ধ্ব-১৭ (বালিকা বিভাগ) সুব্রত কাপে রাজ্যস্তরে চ্যাম্পিয়ন। রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে পরবর্তীকালে দিল্লিতে জাতীয় স্তরে অংশগ্রহণ করে এই স্কুলের ফুটবল দল। সেখানে এই স্কুলের ছাত্রী চুমকি মণ্ডল সেরা ফুটবলারের পুরস্কার পায়।

- Advertisement -

স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমাদের স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। তবুও তাদের মধ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোকেও বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছি আমরা। বর্তমানে আমাদের স্কুলে ফুটবল, কবাডি, ভলিবল, খোখো, তিরন্দাজির দল রয়েছে। আমাদের স্কুলের মাঠে খেলার সঙ্গে যুক্ত ছাত্র-ছাত্রীরা নিয়মিতভাবে অনুশীলন করে। স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক গজেন্দ্রনাথ মাহাতোর পাশাপাশি আমরা রাজ্যের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের স্কুলে নিয়ে আসতাম। আমাদের স্কুলে এসেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সুজাতা কর, প্রবোধ নন্দ সহ আরও অনেকেই। তারা বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের তালিম দিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে স্কুলের এই সাফল্য এসেছে।’

পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘খোখো, ফুটবল এবং তিরন্দাজিতে নজরকাড়া সাফল্য রয়েছে আমাদের স্কুলের। আমরা চেয়েছি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও চৌখস হোক আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা। ভালো খেলোয়াড় হওয়ার সুবাদে তাদের সামনে খুলে যেতে পারে চাকরির দরজা। করোনা পরিস্থিতির জেরে গত এপ্রিল মাস থেকে আমাদের স্কুলে অনুশীলন বন্ধ রয়েছে। তবে এককভাবে বাড়িতে থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলোর মান আরও উন্নত করার জন্য নতুন পরিকাঠামো গড়ে তুলছি। তবে এক্ষেত্রে দরকার সরকারি সাহায্য। বেসরকারিভাবে বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য পেলেও প্রয়োজনমতো সরকারি সাহায্য আমরা এখনও সেভাবে পাইনি। যদি সরকারি সাহায্য পাই, তাহলে আরও ভালো জায়গায় আমরা যেতে পারব। এত বড় একটা পুরস্কার স্কুল পাচ্ছে। কিন্তু আমার প্রিয় ছাত্র ছাত্রীরা মিলিতভাবে আনন্দ উৎসব করতে পারছে না। তবে আমরা ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সকলের কাছে এই খবরটি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। শিক্ষক দিবসের দিন জেলাশাসক আমাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন। এই পুরস্কার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আরও উৎসাহ জোগাবে বলে আমরা মনে করি।’