সিকিউরিটির চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হচ্ছে

শিলিগুড়ি : বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সিতে চাকরির জন্যও দিতে হচ্ছে ঘুষ। সেই ঘুষের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা। অথচ বেতন কারও মাসে ৬ হাজার টাকা আবার কারও ১০ হাজার টাকা। শুধু ঘুষ নেওয়াই নয়, মহিলাদের চাকরি দেওয়ার নাম করে সহবাস করারও অভিযোগ উঠছে। বেশ কিছুদিন ধরে শিলিগুড়ি শহরে সিকিউরিটি এজেন্সির নামে এইসব কাজকর্ম চলছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জানালেও কোনও কাজ হয়নি। পরবর্তীতে ওই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য যুবতীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির মহিলা থানায় ভুক্তভোগী মহিলা লিখিত অভিযোগ জানানোর পরও সেভাবে কোনও ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ।

শিলিগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় মুড়িমুড়কির মতো গজিয়ে উঠেছে সিকিউরিটি এজেন্সি। এই এজেন্সির মাধ্যমে যুবক-যুবতীরা বিভিন্ন জায়গায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ পান। এই সিকিউরিটি গার্ডরা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য মাসের শেষে বেতন পান ৬ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষও তাঁদের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই এজেন্সিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখান থেকে সিকিউরিটি গার্ড নিয়ে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ, বর্তমানে চাকরির বাজার এতটাই খারাপ, যে কোনও চাকরির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছেন শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা। পেটের টানে ৫-৬ হাজার টাকার চাকরির ইন্টারভিউ দিতে হাজির হয়ে যাচ্ছেন কয়েকশো যুবক-যুবতী। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন কিছু সিকিউরিটি এজেন্সির কর্ণধার থেকে শুরু করে বিভিন্নস্তরের কর্মী। টাকা ফেললে চাকরি নিশ্চিত, এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে অনেককে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটিবাটি বিক্রি করে অনেকে সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যাচ্ছেন।

- Advertisement -

শুধু ঘুষই নয়, সুন্দরী মেয়েদের কাছে সহবাসের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হন বলে অভিযোগ। অনেককে কিছুটা মানসিক চাপ দিয়ে সহবাসে বাধ্য করানো হয় বলে অভিযোগ। পেটের দায়ে অনেক যুবতীই কোনওরকম অভিযোগ না জানিয়ে চুপ করে থাকেন। যাঁরা প্রতিবাদ করেন তাঁদের নানারকম হেনস্তার শিকার হতে হয়। শিলিগুড়ির প্রধাননগরের এমনই এক যুবতী সম্প্রতি শিলিগুড়ি মহিলা থানায় আশ্রমপাড়ার একটি সিকিউরিটি এজেন্সির শিলিগুড়ির এক শাখার কর্তার বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সহবাসের অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগের কিছুদিন পর ওই যুবতী যখন প্রধাননগরে একটি হোটেল থেকে খাবার নিয়ে ফিরছিলেন তখন তাঁকে থানা থেকে ওই অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। সেই সময় প্রধাননগর থানার পুলিশ বিষয়টি দেখতে পেয়ে এসে যুবতীকে উদ্ধার করে। পরে এই বিষয়টি নিয়ে ফের শিলিগুড়ি মহিলা থানায় অভিযোগ জানান ওই যুবতী।

ওই যুবতীর আইনজীবী সন্দীপ মণ্ডল বলেন, যাঁদের কাজের দরকার তাঁদের ওপর সুযোগ নিয়ে এই ধরনের যৌন হেনস্তা করা হচ্ছে। অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ কিন্তু এখনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনার তদন্তের জন্য অভিযুক্তের গ্রেপ্তার হওয়া প্রয়োজন। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (পশ্চিম) চিন্ময় মিত্তাল বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছি। পুরো ঘটনার তদন্ত করেও দেখা হচ্ছে।