ট্রেন থামে না, রুজি হারিয়ে বিপাকে হকাররা

অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : একসময় যাত্রীদের ভিড়ে জমজমাট থাকত স্টেশন চত্বর। একের পর এক ট্রেনের আসা-যাওয়াকে ঘিরে জমে উঠত হকারদের বেচাকেনা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে সবকিছুই। করোনা ও লকডাউনের জেরে আর আগের মতো দেখা মেলে না মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের। সারাদিনে এক-দুটো ট্রেন গেলেও, থামে না নিউ ফরাক্কা স্টেশনে। যার ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন নিত্য যাত্রীরা। পাশাপাশি স্টেশনে ট্রেন বা যাত্রী না মেলায় কাজ হারিয়ে আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন হকাররা। এই অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, নিউ ফরাক্কা স্টেশনে পুনরায় ট্রেন থামানো হোক।

ফরাক্কা ব্রিজ তৈরির পর পরই উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ১৯৭১ সালে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের যাত্রা শুরু হয়। একে একে এনটিপিসি জাতীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তারপর সিমেন্ট কোম্পানির আত্মপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নিউ ফরাক্কা স্টেশন। এর একদিকে মেন লাইন, যেটা পাকুর-বর্ধমান দিয়ে কলকাতা পৌঁছেছে অন্যদিকে অপর একটি লাইন ধুলিয়ান-জঙ্গীপুর-কাটোয়া হয়ে কলকাতা যাচ্ছে। পাশাপাশি আরেকটি লাইন ঝাড়খণ্ডের বারারুয়া-ভাগলপুর-পাটনা হয়ে দিল্লির দিকে গিয়েছে। লকডাউনের আগে একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন নিউ ফরাক্কা স্টেশনে থামত। ট্রেন ধরার জন্য স্থানীয়দের যেমন প্রতিমুহূর্তে ভিড় থাকত, তেমনি বহিরাগতদের আনাগোনার বিক্রি জমে উঠত স্থানীয় হকারদের। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের জেরে কমসংখ্যক ট্রেন চলার ফলে নিউ ফরাক্কা স্টেশনে থামছে না। যার জেরে যাত্রীদের একটা বড় অংশ যেমন সমস্যায় পড়ছেন, তেমনি ব্যবসা বন্ধ থাকায় কাজ হারিয়ে সংকটে দিন কাটছে হকারদের। স্টেশনের এক হকার স্বাধীন হালদার বলেন, স্টেশনে চা ও আইসক্রিম বিক্রি করে ভালোই আয় হত। কিন্তু হঠাৎ করে লকডাউন হয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। এখনও পরিস্থিতি ঠিক হয়নি। খুব কষ্ট করে দিন কাটছে আমাদের।

- Advertisement -

ফরাক্কার এক ব্যবসায়ী মুকুট সরকার বলেন, নিউ ফরাক্কা স্টেশনে কোনও ট্রেন না থামায় ভীষণ সমস্যায় পড়ছি আমরা। সপ্তাহে একদিন কলকাতায় মাল আনতে যেতাম কিন্তু ট্রেন না চলায় খুব অসুবিধায় পড়েছি। আনারুল শেখ বলেন, মায়ের চেকআপ করাতে প্রতি দুমাস অন্তর কলকাতায় যেতে হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কোনও ট্রেনই ফরাক্কায় দাঁড়াচ্ছে না। অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া দিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই আমাদের। যার ফলে কী করব বুঝতে পারছি না। নিউ ফারাক্কা স্টেশনের ম্যানেজার এম কে শর্মা বলেন, করোনা ও লকডাউনের জেরে কোনও ট্রেনই ফরাক্কায় দাঁড়াচ্ছে না। শুধু মালগাড়ি পাস করছে। কলকাতার দিকে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরু করলে তারপর হয় তো ট্রেন চালানোর কথা স্থানীয়ভাবে ভাবতে পারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ালে ফরাক্কার সাধারণ মানুষ কিছুটা উপকৃত হত। কারণ, এই স্টেশনে অসংখ্য মানুষ ট্রেন ধরতে আসে।